৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

দেওবন্দ আমাদের আস্থার জায়গা

  • আমিনুল ইসলাম কাসেমী

আহলে ইলমদের মাঝে নাক গলানো বড় বোকামী। কেননা সাধারণ মানুষ তাঁদের পরিভাষাগুলো বোঝার যোগ্যতা রাখে না। তাঁরা কোন বিষয় নিয়ে বিতর্ক করছেন এবং কেন করছেন, সেটা কিন্তু একজন জেনারেল পড়ুয়া বুঝতে অক্ষম। এমনকি মাদ্রাসাতে পড়েও যারা পিছনের টেবিলে বসেছিলেন, তারাও আহলে ইলমদের মুনাজারা বোঝার শক্তি রাখেন না। এজন্য সাধারণ মানুষের উচিত হবে আহলে ইলমদের বিতর্কের মাঝে হাত ঢোকানো থেকে বিরত থাকা।

তবে এ কথা ধ্রুব সত্য এবং সর্বজন স্বীকৃত। শুধু পাবলিকের কথা নয়। পুরো দুনিয়ার আহলে হক উলামায়ে কেরাম দ্বারা স্বীকৃত।। দারুল উলুম দেওবন্দ আমাদের আস্থার জায়গা। এটা এমন এক সিলসিলা, যার মাসলাক-মাশরাব পুরো আলমের মানুষের কাছে সমাদৃত। দারুল উলুম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত এই ইদারার আওলাদ-ফরজন্দ সকল বিষয়ে হক নীতিমালার উপর এমন সমতা বজায় রেখেছেন, সেটা কল্পনাতীত।

দেওবন্দ এমন এক ইদারা, যার সন্তানেরা কখনো কোন মনীষীকে খাটো করা দুরে থাক, সামান্য কালিমা লেপন হোক এরকম মেযায নিয়ে চলেননি। বরং সকল আলেমদের প্রতি সীমাহীন শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে কাজ করে গেছেন। কোন আলেমের প্রতি কখনো অশ্রদ্ধাবোধ নয়। বরং সকল হকপন্থী মনীষীদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার চেষ্টা করেছেন। কারো ব্যাপারে কোন কালাম বা আপত্তি থাকলে সে ব্যাপারে ওলামায়ে দেওবন্দ সুন্দর সমাধান দিয়েছেন। কাউকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ নয়। কারো সাথে কোন দুশমুনি নয়। বরং দেওবন্দ সুন্দর এক রাস্তা বাতলিয়ে দিয়েছেন। যাতে কাউকে অসম্মান করা হয়নি।

আসল কথা কী জানেন? দারুল উলুম এমন এক পজিশন জয় করেছে বিশ্বের মাঝে, যেটা ধারণাতীত। একটানা দেড়শত বছর যাবত যে ধারা যে গতি অব্যহত রয়েছে, সেটা কিন্তু কল্পনা করা যায় না। কোথায় আজ বিশ্বের বড় বড় ইলম চর্চার কেন্দ্রগুলো। যাদের দবদবা ছিল। সেগুলো হারিয়ে গেছে। মনে হয় এখন সেগুলো শুধু ইতিহাস। তাদের সেই কীর্তিগুলো যাদু ঘরে। কোথাও সামান্যতম অবশিষ্ট নেই।

কিন্তু ভারতবর্ষের উত্তর প্রদেশের একদম অজপাগাঁতে সেই ১৮৬৬ সনে শুরু হলো ইলমে হাদীসের চর্চা। আল্লাহর মেহেরবাণীতে আর থেমে থাকেনি। বিরামহীন ভাবে চলেই আসছে। শুধু তাই নয়। এর আলো ছড়িয়ে গেছে বিশ্ব পরিমন্ডলে। আর এই ইদারা যেভাবে সোনার মানুষ গড়ে তুলেছে। যেসব যোগ্য সন্তান পয়দা করেছে, সেগুলো নিয়ে গর্ব করা যায়।

দেওবন্দ এখনো কিন্তু কালের স্রোতে বিলীন হয়নি। সর্ব শক্তি দিয়ে হলেও হক নীতির উপরে অটল-অবিচল। অথবা কাউকে খামাখা সমীহ করেননি। সর্ব বিষয়ে দেওবন্দ এর কোন জুড়ি হয় না। তবে মনে রাখতে হবে, আহলে ইলমদের মাঝে বিতর্ক দ্বারা হক জিনিসটা বেরিয়ে আসে। উলামাদের মাঝে ইখতেলাফ রহমত স্বরুপ। সহিহ বিষয়টা মানুষের সামনে চলে আসে। কোনটা ঠিক আর কোনটা বেঠিক সেটা প্রকাশ পায়। একারণে ইখতেলাফ থাকবে। ইলমী বিষয় নিয়ে আহলে ইলমদের মাঝে মতবিরোধ হবে। এর দ্বারা জাতি সীমাহীন উপকৃত হবে।

আহলে ইলমদের বিতর্ক দেখলে সাধারণ মানুষদের চুপ করে থাকাটাই শ্রেয়। কেননা, আপনি কোন পক্ষ নিবেন? আপনার কী সেই জ্ঞান আছে? যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সেব্যাপারে নীরব থাকাটা বাঞ্চনীয়। কারো কথাকে কটাক্ষ করা নয়। কোন পক্ষাবলম্বন করাটা মোটেও ঠিক হবে না। তবে আমাদের এই দেশের মাদ্রাসাগুলো দারুল উলুম দেওবন্দের উসূল অনুযায়ী চলে থাকে। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়েছে দেওবন্দকে অনুসরণ করে। আমাদের সুতিকাগার দেওবন্দ। সুতরাং ইখতেলাফ বা মতানৈক্য যখন আলেমদের মাঝে দেখা দিবে। আমরা দেওবন্দ এর প্রতি আস্থা রাখতে পারি। তার দিকে তাকিয়ে থাকতে পারি। তারা যে ফায়সালা দেয় সেটার উপরে সন্তুষ্ট থাকা যায়।

শুধু বাংলাদেশ নয়। পুরো বিশ্বের আহলে হক উলামা এবং দ্বীনদার মানুষেরা দেওবন্দ এর উপরে আস্থা রাখছে। দেওবন্দকে অনুসরণ করছে। দেওবন্দের যে কোন ফায়সালা কে মেনে নিচ্ছে। এটা এমন এক প্রতিষ্ঠান যেটাকে মাকবুলিয়্যাত এর দরজায় চলে গেছে। তাই আসুন! মাদারে ইলমী দারুল উলুম দেওবন্দকে ঘীরে এমন কোন কাজ যেন আমাদের না হয়, যাতে আকাবির-আসলাফের উপরে কোন আপত্তি বা কালাম চলে আসে। এটাকে বিতর্কের বাইরে রেখে আমাদের মারকাজ ঠিক রাখি। আল্লাহ আমাদের উপর রহম করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষক ও কলামিষ্ট

আরও পড়ুন: স্বপ্ন দেখি দেওবন্দ

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com