২২শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

দেশে এক বছরে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার

taka

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতি ফের আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতিও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দেশের প্রধান রপ্তানি আয়ের উৎস তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি আদেশ আবারও আগের অবস্থানে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দেশে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যাও। এক বছরের ব্যবধানে দেশে কোটিপতি আমানতকারীর হিসাব বেড়েছে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৬টিতে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি। আর ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ৯৭৬ টিতে। সেই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৮৬টিতে।

করোনা মহামারির সময়ে ২০২০ সালের মার্চে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৬২৫টি। মহামারির মধ্যেই একই বছরের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ছাড়িয়ে যায়। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ এক হাজার ৯৭৬ টিতে। শুধু করোনা মহামারির ২১ মাসে কোটিপতি হিসাবধারী অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৩৫১টি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে ১২ কোটি ৪৮ লাখ ৯৬ হাজার ৯৩৪ টি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়।এসব হিসাবে অর্থ জমার পরিমাণ ১৫ লাখ ১২ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু কোটি টাকার বেশি হিসাবে জমার পরিমাণ ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। আর ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট আমানতের স্থিতির পরিমাণ ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। একই সময় শেষে কোটিপতি ব্যাংক হিসাবগুলোয় জমার পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৯৫ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা।

প্রতিবেদন বলা হয়, এক কোটি এক টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার আমানতকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৮৮৩ টিতে, যেখানে জমার পরিমাণ এক লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। পাঁচ কোটি টাকা থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে ১৭ হাজার ৯টি হিসাব রয়েছে যেখানে জমার পরিমাণ এক লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। আর ২০ কোটি টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার ওপরে মোট হিসবাধারীর সংখ্যা ৫ হাজার ৮৪টি, যেখানে জমার পরিমাণ ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিলো ৫ জন। ১৯৭৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে। ১৯৮০ সাল শেষে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। আর ২০২০ সালে ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে।

সুত্র : ঢাকা পোষ্ট

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com