১লা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২১শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের শোচনীয় হার

ক্রীড়া ডেস্ক : শনিবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও আট উইকেটে হেরেছে সফরকারী বাংলাদেশ। এর আগে নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানো বাংলাদেশ এখন হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কায়।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ২২৬ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন মোহাম্মদ মিঠুন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ রান আসে সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ৪৩ রানে ৩টি উইকেট নেন ডানহাতি পেসার লুকি ফার্গুসন। জিমি নিশাম আর টড অ্যাস্টল শিকার করেন ২টি। ম্যাট হেনরি, কলিড ডি গ্র্যান্ডহোম আর ট্রেন্ট বোল্ট পান একটি করে উইকেট।

২২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট কতে নেমে দলীয় ৪৫ রানে হেনরি নিকোলসকে (১৪) হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মার্টিন গাপটিল-উইলিয়ামসনের ১৪৩ রানের জুটিতে জয়ের রাস্তা তৈরি করে ফেলে স্বাগতিকরা।

মাত্র ৭৬ বলে ক্যারিয়ারের ১৬তম ও চলতি সিরিজে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন গাপটিল । শেষ পর্যন্ত ৮৮ বলে ১১৮ রান করে মোস্তাফিজের বলে আউট হন তিনি। নিজের ইনিংসটি ১৪টি চার আর ৪টি ছক্কায় সাজান গাপটিল। এরপর রস টেলরকে (২১*) নিয়ে বাকি কাজটুকু সেরে ফেলেন উইলিয়ামসন। ক্যারিয়ারের ৩৭তম ফিফটি তুলে নেয়া উইলিয়ামন অপরাজিত থাকেন ৬৫ রান করে ।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটাই ছিল বাজে। দলীয় ৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় সফরকারি দল। বোল্টের বলে লুকি ফার্গুসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন দাস (১)। আরেক ওপেনার তামিম ইকবালও টিকতে পারেননি। ৫ রান করে হেনরির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন তিনি। দলীয় ৪৮ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। ডি গ্র্যান্ডহোম তুলে নেন সৌম্য সরকারকে। ২৩ বলে ২২ রান করেন তিনি।

চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে জুটি বেঁধে বিপদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ২০০ ওয়ানডে খেলার মাইলফলক স্পর্শ করা মুশি ভালোই খেলছিলেন। কিন্তু দলীয় ৮১ রানে ফার্গুসনের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফেরার আগে ৩৬ বলে করেন ২৪ রান। মুশির বিদায়ের পর দ্রুতই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে হারায় বাংলাদেশ। ৮ বলে ৭ রান করে লেগস্পিনার টড অ্যাস্টলের বলে উইকেটের পেছনে টম লাথামের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রিয়াদ।

নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের সময় হাল ধরেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। ক্রাইস্টচার্চে বাঁচা-মরার লড়াইয়েও দলকে টানেন তিনি। ৯৩ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে পথ দেখান এই ডানহাতি। ষষ্ঠ উইকেটে সাব্বিরের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন বিপদ সামাল দেন মিঠুন । ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও চলতি সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন তিনি। তবে এবারও ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। অ্যাস্টলকে মারতে গিয়ে বোল্ড হন ব্যক্তিগত ৫৭ রানে। ৬৯ বলে ৭ বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

মিঠুনের বিদায়ের পর ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাব্বির। মেহেদি হাসান মিরাজ যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি তাকে। ৪০তম ওভারে হেনরির বলে একবার ক্যাচ তুলে বেঁচে যান তিনি। বাউন্ডারি লাইনে তার ক্যাচ ছাড়েন হেনরি নিকোলস। পরের ওভারে জিমি নিশামকে মারতে গিয়ে সেই নিকোলসের হাতেই ধরা পড়েন মিরাজ (১৬)। দলীয় ১৯০ রানে সপ্তম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর ২১ রানের ব্যবধানে সাব্বির (৪৩) ও সাইফউদ্দিনও (১০) বিদায় নেন। মাশরাফির ১৮ বলে ১৩ রানের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ৪৯.৪ ওভারে ২২৬ রানে থামে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৪৯.৪ ওভারে ২২৬/১০ (তামিম ৫, লিটন ১, সৌম্য ২২, মুশফিক ২৪, মিঠুন ৫৭, মাহমুদউল্লাহ ৭, সাব্বির ৪৩, মিরাজ ১৬, সাইফউদ্দিন ১০, মাশরাফি ১৩, মোস্তাফিজ ৫*; ফার্গুসন ৩/৪৩, নিশাম ২/২১, অ্যাস্টল ২/৫২, হেনরি ১/৩০, বোল্ট ১/৪৯, ডি গ্র্যান্ডহোম ১/২৫)

নিউজিল্যান্ড: ৩৬.১ ওভারে ২২৯/২ (নিকোলস ১৪, গাপটিল ১১৮, উইলিয়ামসন ৬৫*, টেলর ২১*, মোস্তাফিজ ২/৪২)

ম্যাচসেরা: মার্টিন গাপটিল

সিরিজ: ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউজিল্যান্ড।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com