ধনীদের বেশী কর দিতে হবে

ধনীদের বেশী কর দিতে হবে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সাধারণ জনগণের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে সমাজে যারা বিত্তবান, তাদের কাছ থেকেই বেশি কর আহরণের জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (৩ জুন) পেশ করা বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।

বাজেটে সম্পদশালীদের ওপর সারচার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সারচার্জ আদায় প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন নিট সম্পদ মূল্য ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জমুক্ত এবং ন্যূনতম সারচার্জ বছরে ৩ হাজার টাকা। সাতটি স্তরে প্রযোজ্য হারে সারচার্জ আদায় করা হতো। নতুন বাজেটে নিট সম্পদমূল্য সীমা ৩ কোটি টাকাই বহাল রেখে ন্যূনতম সারচার্জ বাতিল করা হয়েছে। স্তর সাতটির পরিবর্তে করা হয়েছে পাঁচটি। নিট পরিসম্পদের মূল্য তিন কোটি টাকার বেশি কিন্তু ১০ কোটি টাকার কম, অথবা নিজ নামে মোটর গাড়ি, প্রাইভেট কার, জিপ বা মাইক্রোবাস থাকলে অথবা কোনও সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৮ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের গৃহসম্পত্তি থাকলে তাকে সারচার্জ দিতে হবে ১০ শতাংশ।

নিট সম্পদ ১০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ২০ কোটি টাকার কম, তাকে সারচার্জ দিতে হবে ২০ শতাংশ, যার নিট সম্পদ ২০ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ৫০ কোটি টাকার কম হলে তাকে সারচার্জ দিতে ৩০ শতাংশ হারে এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে তাকে দিতে হবে ৩৫ শতাংশ সারচার্জ। এছাড়া সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরণের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক করদাতাকে তার ব্যবসা হতে অর্জিত আয়ের ২.৫ শতাংশ হারে সারচার্জ দিতে হবে।

সারচার্জ হচ্ছে এক ধরনের ‘অতিরিক্ত’ কর। ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে কারও নির্দিষ্ট সীমার বেশি সম্পদ থাকলে নিয়মিত কর দেওয়ার সঙ্গে ‘বাড়তি’ সারচার্জও পরিশোধ করতে হয়। নিট সম্পদের ওপর ভিত্তি করে এটি ধার্য করা হয়। একে ‘সম্পদজনিত’ করও বলা হয়। এখানে চাকরি থেকে যে আয় আসছে, তার জন্য কর দিতে হবে। সঙ্গে সম্পদের জন্যও পৃথক সারচার্জ দিতে হবে। বর্তমান আইনে ব্যক্তির করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ টাকা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *