ধর্মগ্রন্থ অবমাননায় জেলের ভেতরও বাঁচতে পারলেন না মহিন্দর

ধর্মগ্রন্থ অবমাননায় জেলের ভেতরও বাঁচতে পারলেন না মহিন্দর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : শিখ ধর্মগ্রন্থ অবমাননায় ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার করা হয় মহিন্দর পাল বিট্টুকে। কিন্তু জেলের ভেতরও রেহাই মেলেনি তার। শনিবার (২২ জুন) জেলের ভেতরই খুন হয়েছেন সহবন্দিদের হাতে।

ঘটনাটি ভারতের পাঞ্জাবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর পাতিয়ালার। শহরের নিউ নভ জেলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় মহিন্দরের রক্তাক্ত দেহ। এর জের ধরে দাঙ্গা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ রাজ্য প্রশাসন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ভারতের গণমাধ্যম জানায়, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে। দুই সহবন্দি গুরুসেওয়াক সিং ও মনিন্দর সিংয়ের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয় মহিন্দরের। জানালা থেকে শিক খুলে মহিন্দরকে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকে দুইজন। ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন জেলের ওয়ার্ডেন ও পুলিশ কর্মীরা। তবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মারা যান মহিন্দর।

শিখ ধর্মগ্রন্থ অবমাননার ঘটনায় ২০১৫ সালে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পঞ্জাবের ফরিদপুর জেলার বারগারি এলাকা। শিখদের ধর্মগ্রন্থের ছেঁড়া বেশ কিছু পাতা পড়ে থাকতে দেখা যায় এলাকায়। সেটি দেখেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় শিখরা। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের এই অবমাননার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্থানীয়রা। আন্দোলন বৃহত্তর আকার ধারণ করে। সপ্তাহ খানেক ধরে পঞ্জাবের বিভিন্ন সড়ক পথ অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। অবরোধ তুলতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের। গুলিতে মারা যায় দুই বিক্ষোভকারী। আহত হন বহু মানুষ। বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্য সরকার। এই অবমাননার ঘটনায় ধরপাকড়ও চলে। গ্রেপ্তার হন মহিন্দর পাল বিট্টু।

পুলিশ জানায়, মহিন্দরের বিরুদ্ধে মামলা চলছিল। এই অবস্থায়ই খুন করা হয়েছে তাঁকে। কী কারণে তাঁর ওপর এই আক্রোশ সেটা এখনও জানা যায়নি। তবে ফের দাঙ্গা হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় জেলের সুপার ও ব্যারাক-ইন-চার্জকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের যোগ্য শাস্তি দেওয়া হবে। রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র : দি ওয়াল

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *