৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী : শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীদের

ধর্ষণ ও যৌন হয়রানী : শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীদের

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না পেলে অপরাধীদের অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ থেকে যায়। ফলে সব ধরনের অপরাধপ্রবণতা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সুশাসন তথা আইনের শাসন মজবুত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারীর সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু আইনের শাসনই যথেষ্ট নয়, সামাজিক শক্তিরও প্রবল সমর্থন প্রয়োজন। বাংলাদেশে ধর্ষণ কার্যত এক অপ্রতিরোধ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। অত্যন্ত কঠোর আইন, নারী অধিকার সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ, সংবাদমাধ্যমের লেখালেখি- কোনো কিছুতেই ধর্ষণকারীদের দৌরাত্ম্য কমছে না।

দেশের আনাচে-কানাচে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বয়সী নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কখনো কখনো অবিশ্বাস্য রকমের পাশবিক কায়দায় একের পর এক ঘটে চলেছে ধর্ষণ; যেন ধর্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। গত বছর বাংলাদেশে ধর্ষণবিরোধী প্রতিবাদ হয়েছে। সম্প্রতি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সন্তানদের সামনেই বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালানো হয়েছে। শনিবার এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেদিনই আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে ১ জানুয়ারি রাতে এ ঘটনা ঘটে। ৫ জানুয়ারি ওই গৃহবধূ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। বিচারক বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে হাতিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন। ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংস নানা অপরাধের বিচার ঠিকমতো হলে, অপরাধীরা দ- ভোগ করলে আজ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের চিত্র এমন ‘বর্বরতার চূড়ান্ত’ পর্যায়ে পৌঁছাত না। ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতাপূর্ণ নানা অপরাধের ঘটনায় বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি পাকাপোক্ত রূপ পেয়েছে তার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়।

নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র, ধর্ম-সম্প্রদায়নির্বিশেষে নারীর মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা শুধু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক শক্তিগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ধর্ষণের প্রতি জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে শুধু সরকারকে নয়, গোটা সমাজকে। ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে ব্যক্তি, পরিবার, পাড়া-মহল্লাসহ গোটা সমাজকে সোচ্চার হতে হবে।

ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনসহ সব ধরনের অপরাধবৃত্তি দমনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সরকারের একান্ত দায়িত্ব। প্রশাসনের উচিত এসব অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পথ সুগম করা। তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলে আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com