শেরপুর প্রতিনিধি : জেলার নকলায় বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। এক কালের চাহিদাবিমুখ প্রকৃতিজন্মা লটকন ফল কালের বিবর্তনে এখন অধিক চাহিদাসম্পন্ন ও ব্যাপক অর্থকরী ফল হিসেবে অত্যধিক গুরুত্ব বহন করায় ভাগ্য খুলেছে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, লটকনের স্থানীয় নাম বুবি। এই ফল চাষের শুরুতে গাছের চারা ক্রয় ও রোপণ খরচ ছাড়া আর কোনো খরচ নেই। তেমন কোনো পরিচর্যাও করতে হয় না। এই ফলের গাছ বেলে বা বেলে-দোআঁশ মাটিতে তথা পরিত্যক্ত জমিতে বেড়ে উঠতে পারে। বীজের গাছে ফলন আসতে আট বছর থেকে ১০ বছর সময় লাগত। কিন্তু কলম করা গাছে ফলন আসতে সময় লাগে মাত্র দুই থেকে তিনি বছর। তাই চাষিরা কলম করা গাছের দিকেই বেশি ঝুঁকছেন। প্রতি বছর মাঘ-ফাল্গুন মাসে লটকন গাছে ফুল আসা শুরু হয় এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিক থেকে ফল পাকা শুরু হয়। বর্তমানে আগাম জাতের কিছু লটকন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। যার খুচরা মূল্য প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পাইকারি মূল্য ৭৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা। আর প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা করে।
বন্দটেকী গ্রামের চাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নার্সারির ব্যবসা করতাম। ২০০৫ সালে লটকন বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় পড়ি। পরে ২০টি লটকন গাছ বাড়ির আঙিনার পরিত্যক্ত জমিতে রোপণ করি। আস্তে আস্তে লটকন থেকে অর্থ আসতে শুরু করায় আমি বাণিজ্যিকভাবে এই ফলটি চাষ শুরু করি।
লটকন চাষি শরীফ হোসেন জানান, তার ১৪৫টি লটকন গাছের ফল অগ্রিম এক লাখ ৪৫ হাজার টাকায় এবং একই গ্রামের মুনসেফ আলীর ৭৫টি গাছের ফল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর বলেন, বাড়ির আঙিনায় এবং যেকোনো কাঠ বা ফলের বাগানেও লটকন চাষ কার সম্ভব। ছায়াযুক্ত স্থানের লটকন মিষ্টি বেশি হয়। তাই এটা চাষ করতে বাড়তি জমির দরকার হয় না। তা ছাড়া ঝুঁকিমুক্ত এই ফলের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
____________
patheo24/105


