৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

নকল প্রসাধনী ঠেকাতে নজরদারির বিকল্প নেই

নকল প্রসাধনী ঠেকাতে নজরদারির বিকল্প নেই

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হাত বাড়ালেই মিলছে নকল আর ভেজাল প্রসাধনী। মোড়ক দেখে কারও বোঝার সাধ্য নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল। নকলের ভিড়ে প্রিয়জনের জন্য কেনা হচ্ছে প্রসাধনীর নামে এক প্রকার বিষ। দেশি-বিদেশি বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের প্রসাধনীর মোড়ক নকল করে তা বাজারজাত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার পরিত্যক্ত মোড়ক ও কৌটাতে নকল প্রসাধনী ঢুকিয়ে দেদার বিক্রি করা হচ্ছে। বৈধ-অবৈধ দুই পথেই চীন থেকে আসছে শুধু ব্র্যান্ডের নকল কৌটা আর বাহারি মোড়ক। এতে ভেজাল প্রসাধনী ভরে বিক্রি হচ্ছে আসল দামে।

পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক ভেজাল আর নকল পণ্যের এসব পসরা অনেকটা ওপেন সিক্রেট। অজ্ঞাত কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। অভিযোগ রয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় নকল ও ভেজাল পণ্যের বড় সিন্ডিকেট কাজ করে যাচ্ছে বছরের পর বছর। এতে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এসব পণ্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নকল পণ্যে যেসব কেমিক্যাল ব্যবহার হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘকাল এসব পণ্য ব্যবহারে স্বাস্থ্যের বড় ক্ষতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যানটিন প্রো-ভি শ্যাম্পু, গার্নিয়ার, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, ল’রেল, রেভলন ও প্যানটিন, নিভিয়া লোশন, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়ামেরিন লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান; সুগন্ধির মধ্যে হুগো, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক, কোবরা সবই এখন ভেজাল আর নকলে ভরা। প্রসাধনীর বাজারে ভেজাল ও নকল পণ্যের ছড়াছড়ি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত জাতীয় প্রতিবেদন ভয়ংকর সংবাদ নিয়ে এসেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের নানা প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহারের রুচি তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত দেশি-বিদেশি প্রসাধন কোম্পানির বাজার বেড়ে চলেছে। এ খাতের সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এমনকি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড পণ্যেরও ক্রেতা মেলে রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। কিন্তু বাজার সয়লাব ভেজাল ও নকল পণ্যে। পুরান ঢাকার চকবাজার ও কামরাঙ্গীর চরে অভিযান চালিয়ে তিনটি নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানাকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মেয়াদোত্তীর্ণ কাঁচামাল দিয়ে প্রসাধনসামগ্রী উৎপাদন ও প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে সেগুলো বাজারজাত করায় এসব জরিমানা। এ সময় কারখানা তিনটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যের নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের গুণগত মান আশা করা বাতুলতা। বরং নকল পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে মানুষ ক্যান্সারসহ বিভিন্ন চর্মরোগের শিকার। প্রসাধনী বাবদ বিপুল রাজস্ব পাওয়ার বদলে চর্মরোগের পেছনে জাতীয় ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে! পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক ভেজাল ও নকল পণ্যের পসরা অনেকটা ‘ওপেন সিক্রেট’। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গড়ে উঠেছে ৩ শতাধিক কারখানা ও গুদাম। এমন অভিযোগও রয়েছে যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতাতেই ভেজাল সিন্ডিকেট কাজ করে যাচ্ছে বছরের পর বছর।

প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে ভেজাল পণ্য উৎপাদন গুরুতর অপরাধ; যা বন্ধে এমন অভিযান অন্যান্য এলাকায়ও চালাতে হবে। আমরা আশা করবো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির সঙ্গে সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com