২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

নবীপ্রেম: আমাদের ভারসাম্য ও উদারতা

  • মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান

দিন কয়েক আগে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র নুপুর শর্মা প্রিয় আমাদের নবী মুহাম্মাদ সা. সম্পর্কে কটুক্তি করে বিশ্ব মুসলিমের মনে দারুণ ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। একজন মুসলিম তার প্রাণের উপর হামলা মেনে নিতে পারে, সম্পদের উপর হামলা মেনে নিতে পারে, পরিবারের উপর হামলাও হয়ত সয়ে যেতে পারে, কিন্তু মুসলিম কখনও তার পয়গম্বরের ইজ্জত নষ্ট হতে দিতে পারে না। তবে ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে তার ঔদার্য ও ভারসাম্যের মাঝে। কেবল মুহাম্মাদ সা. নন, খৃস্টানদের পয়গাম্বরকেও যদি কেউ গালি দেয় বা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে তাহলে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে।

ইহুদিদের নবী হযরত মুসা আ. সম্পর্কেও যদি কেউ সামান্য কটুক্তি করে তাহলে সেও ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাবে। এমনকি হিন্দুদের অবতার শ্রী রাম ও শ্রী কৃষ্ণ সম্পর্কেও কেউ কটুক্তি করলে ইমান থেকে খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার কারণ এসব অবতার সম্পর্কে বহু মুসলিম মনীষীর ধারণা ছিল, তারা নবী রাসূল হতে পারেন। কোনো নবী রাসূলকে কেউ গালি দিলে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, ইসলামে তো অন্য ধর্মের দেব দেবীদেরও গালি দিতে নিষেধ করা হয়েছে।

মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহকে ছেড়ে তারা যাদের পূজা করে তোমরা তাদের গালি দিয়ো না। কারণ তারা সীমালংঘন করে অজ্ঞানতাবশত আল্লাহকেও গালি দিবে।’ [সুরা আনআম, আয়াত: ১০৮]। কাতাদা বলেন, ‘নবীজীর যুগের শুরুর দিকে মুসলমানরা কাফেরদের মুর্তিকে গালি দিত, জবাবে কাফেররা আল্লাহকে গালি দিতে আরম্ভ করল, তখন আল্লাহ তায়ালা এ আয়াত নাযিল করলেন।’ [তাফসীরে তাবারি]।

মূলত এ আয়াতে মাল্টিকালচারাল সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতির উল্লেখ করা হয়েছে। পৃথিবীর সব ধর্মাবলম্বীরা যদি এই নীতিটি অনুসরণ করেন তাহলে ধর্মে ধর্মে হানাহানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনক হচ্ছে যাদের উদ্দেশ্যে এই আয়াত নাযিল হয়েছে সেই আমরা মুসলমানরাও এ শিক্ষাকে অনুসরণ করতে ভুলে গেছি। নিজেদের ধর্ম বিশ্বাস অন্যদের সামনে হিকমাহ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুসলিমদেরকে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, তুমি তোমার রবের পথে জ্ঞানবুদ্ধি ও শুভেচ্ছামূলক কথার মাধ্যমে আহ্বান কর (এমন সুন্দর কোমল কথার মাধ্যমে আহ্বান করো, যাতে প্রতিপক্ষের মন তা কবুল করার জন্য নরম হয়ে যায়। -তাফসীরু ফাতহুল কাদীর) এবং সুন্দরতম পন্থায় তাদের সাথে আলোচনা কর, তোমার পালনকর্তাই জানেন কে তার পথ ছেড়ে বিপথগামী এবং কে সৎ পথে আছে? [সুরা নাহল, আয়াত: ১২৫]

অন্য ধর্মের মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য না করতে স্পষ্ট হুকুম দেওয়া হয়েছে এ আয়াতে। কিন্তু বর্তমান মুসলিমদের কেউ কেউ অন্য ধর্মের উগ্র মানুষদের থেকে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই। সাম্প্রদায়িকতায় তারা অন্য যে কোনো ধর্মের উগ্রপন্থী মানুষের কাছাকাছি, অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে।

আজ আমরা নুপুর শর্মার বিরুদ্ধে কথা বলছি। অবশ্যই বলতে হবে। কিন্তু আমাদের নিজেদের কর্মপদ্ধতিও ভেবে দেখা কর্তব্য। মন্দের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে আরো মন্দ কিছু যেন আমাদের থেকে প্রকাশ না পায় সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে সবসময়। কারণ আল্লাহ তায়ালা সীমালংঘনকারীদের পসন্দ করেন না। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর; কিন্তু সীমালংঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না। [সুরা বাকারা আয়াত: ১৯০]

এ আয়াতে দেখা যাচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রে, যেখানে শত্রুর সাথে যুদ্ধ চলছে, সেখানেও যুদ্ধের ময়দানে যেন সীমালংঘন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে মুসলিমদেরকে। যুদ্ধ ছাড়া স্বাভাবিক অবস্থায় তো কথাই নেই। কিন্তু এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে দেখা যায় আমাদের সমাজে বিশেষত বাঙালি মুসলিম সমাজে চরম উত্তেজনার সাথে সাথে উগ্রতাও ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানে উগ্রতা ছড়ালে খুব ক্ষতিকর হয় না, কারণ সেখানে নগণ্য সংখ্যক হিন্দু আছে, পাকিস্তানে মুসলমানদের বিভিন্ন ফেরকার দ্বন্দ্ব হয়, হিন্দু মুসলিম দ্বন্দ্বের সুযোগ সেখানে নেই বললেই চলে।

একসময় পাকিস্তানে বাংলাদেশের চেয়ে বেশি হিন্দু ছিল, হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থানগুলো ধ্বংসাবশেষ এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দুদের মেরে কেটে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতে। চরম নিপীড়ন করেও যাদের বিতাড়ণ সম্ভব হয়নি তারা রয়ে গেছে আজও। এই দু পার্সেন্ট হিন্দুও কতদিন টিকতে পারবে বলা মুশকিল। সংখ্যায় অতি নগণ্য হবার কারণে এবং হিন্দুরা অর্থনৈতিকভাবে একেবারে পিছিয়ে থাকার কারণে সেদেশে এখন খুব একটা দাঙ্গার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বিরাজমান; প্রায় শতকরা দশভাগ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বসবাস এখানে। তাই খুব সতর্ক থাকতে হবে আমাদেরকে।

এর আগেও দেখা গেছে, ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের কোনো উগ্রপন্থার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমাদের দেশের সংখ্যালঘু সনাতন ধর্মাবলম্বিদের উপর হামলা হয়েছে। তাদের মন্দির ভাংচুর হয়েছে। বাড়িঘর লুটপাট হয়েছে। হিন্দু পাড়ায় ভয়ের এক রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আশপাশ থেকে মুসলিম তরুণ যুবারা গিয়ে উত্তেজিত মিছিল করে সংখ্যালঘুদের মনে চরম আশংকার বীজ বুনে এসেছে।

নুপুর শর্মার অযাচিত বক্তব্য আমাদের মনে চরম আঘাত হেনেছে নিঃসন্দেহে। কিন্তু আমাদের অনেকেই হিন্দুদের আঘাত করাকে হালাল মনে করেন। হিন্দুদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিভিন্নভাবে অনেক বিপথগামি মুসলিম হিন্দুদের মনেও আঘাত হানে। অপরাধী কেবল নুপুর শর্মা নয়, হিন্দু হোক বা মুসলিম হোক, যারাই অন্য ধর্মের মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলে, ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননা করে এবং অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানে তারা সবাই সমান অপরাধী।

ইসলাম আমার চোখে নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কিন্তু এই শ্রেষ্ঠত্বের দম্ভ নিয়ে আমার আপনার অধিকার নেই অন্য ধর্মের কোনো ধর্মাচার বা কালচারকে তাচ্ছিল্য করার। ইসলাম ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ববোধ আমাদের বিনয়ী করবে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করবে।

নুপুর শর্মার প্রতিবাদ করছি আমরা। খুব ভালো কথা। প্রতিবাদ হওয়া চাই। কিন্তু যুগ যুগ ধরে আমাদেরই কিছু ভাই হিন্দুদেরকে মালু বা মালাউন বলে আসছে, কুরআনের কোন আয়াতে এমন মন্দ আচরণের কথা আছে? মালাউন অর্থ অভিশপ্ত। যে কোনো হিন্দু দেখলেই আমরা অবলীলায় তাকে মালাউন বলে ফেলি। অথচ কে মালাউন, কে আল্লাহর প্রিয়- সে ফয়সালা কোনো মানুষ করতে পারে না। যদি কেউ নিশ্চিত জেনেও যায়- অমুক অভিশপ্ত, তবু তো তার মনে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া বৈধ হতো না ইসলামে। সেখানে এভাবে গড়পড়তা হিন্দু দেখলেই মালু বা মালাউন বলা ইসলামী শিক্ষা কী করে হতে পারে?

সম্প্রতি দেখা যায় হিন্দুদের গোমুত্র পান নিয়ে অনেক ইসলামী বক্তা খুব তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেন। হিন্দু ধর্মে যদি গোমুত্রকে পবিত্র জ্ঞান করা হয়, তাহলে কেবল আপনার রুচি বিরুদ্ধ হবার কারণেই কি এটা নিয়ে ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করার এখতিয়ার আপনার আছে? যেখানে ইসলামী অনেক স্কলারের মতেই গোমুত্র পবিত্র বলে মতামত রয়েছে। মদীনার শ্রেষ্ঠ আলেম ইমাম মালেক রহ., ইমাম আবু হানীফার শিষ্য ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এবং আহমাদ ইবনু হাম্বল রহ.সহ প্রথম যুগের বহু মুসলিম স্কলার গোমুত্র পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। [বিদায়াতুল মুজতাহিদ, মুদাওয়ানাতুল কুবরা, আলমুগনি, মাবসুত ও অন্যান্য ফাতাওয়ার উৎসগ্রন্থ দ্র.]

বুখারী মুসলিম সহ বহু হাদীসের কিতাবে আরবের উরাইনা গোত্রের কিছু লোককে রাসূল সা. উটের প্রস্রাব পানের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সহি সনদের বিবরণ রয়েছে। এই হাদীসের ভিত্তিতে আধুনিক আরবেও অনেকেই নববী চিকিৎসা হিসেবে উটের পেশাব ব্যবহার করেন। হজের সময় হাজি সাহেবরা দেখতে পান, কিভাবে উটের পেশাব বিক্রি করা হয়। সৌদি আরবে এক লিটার উটের পেশাব বিক্রি হয় ৮০ রিয়ালে। উটের দুধের চেয়েও পেশাব অধিক মূল্যে বিক্রি হয়। ইরাক ও ইরানের একটি সাইটে দেখা গেছে ৫০ ডলারে এক লিটার উটের পেশাব বিক্রি হয়েছে। আরবি পোর্টালগুলোতে এসব তথ্য সবার জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে।

উটের মুত্র আর গরুর মুত্রের মাঝে পার্থক্য খুব একটা বেশি তো নয়। উট আর গরুর মুত্র পান আমাদের চোখে নিকৃষ্ট বিষয়, কিন্তু আরব ও হিন্দুদের কাছে তা পবিত্র ও ঔষধি গুণসম্পন্ন। আপনি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে পারেন বস্তুনিষ্ঠ আলোচনায়, কিন্তু একটা গোষ্ঠি বা সম্প্রদায়কে হেয় ও ছোট করার কোনো অধিকার আপনাকে আল্লাহ রাসূল ও সমাজ সভ্যতা দেয় না। আমরা পাকা আমের নিচে ছিদ্র করে চুষে চুষে রস খেয়ে থাকি, কিন্তু আরবের মানুষ এ অবস্থা দেখে বমি করে দেয়ার উপক্রম হয়, এবং আমাদেরকে অসভ্য বলে গালি দেয়। যেখানে থুতু লেগে আছে সেখানে বারবার মুখ লাগানো তাদের চোখে খুবই ঘৃণ্য ব্যাপার। মূলত এসবই স্থান ও অঞ্চল ভেদের কারণে হয়ে থাকে। এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

অজ্ঞানতাবশত কিছু মানুষ হিন্দুদের ধর্মাচারের বিরোধিতা করতে গিয়ে নিজের নবীর অবমাননাও করে বসে। হিন্দুরা এতটা কুসংস্কারাচ্ছন্ন যে তারা গোমুত্র পান করে। এ কথার অর্থ সর্বশ্রেষ্ঠ পয়গম্বর আমাদের নবীজীকেও তারা কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলার দুঃসাহস করবে। রাসূল সা. আরব বেদুইনদেরকে উটের মুত্র পান করতে বলেছিলেন। আপনি উটের পেশাব পান করেন না বলে কি এটাকে অরুচিকর মন্তব্য করবেন? মূলত যখন অন্য যে কোনো ধর্মকে নিয়ে কেউ উপহাস করে তখন গঠনমূলক সমালোচনার উপযোগ নষ্ট হয়ে যায়।

ইসলাম প্রতিটি ধর্ম সম্পর্কে গঠনমূলক আলোচনার অবকাশ দেয় কিন্তু কোনো ধর্মের বিরুদ্ধেই কটুক্তির সুযোগ ইসলামে নেই। কাউকে গালি দেওয়া এবং কারো মনে আঘাত দেওয়া কোনো অবস্থায় জায়েজ নয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে অবিশ্বাসীদেরকে কাফের বলেছেন। কাফের অর্থ অস্বীকারকারী। এটি গালি হিসেবে নয়, বরং অমুসলিমদের পরিচয় হিসেবে ব্যবহৃত শব্দ। পরবর্তীতে যখন এটিকে গালি হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে কিছু মুসলিম তখন ফাতাওয়ায়ে আলমগিরিতে বলা হয়, কাফের লকব শুনে যদি কোনো অমুসলিম মনে কষ্ট পায় তাহলে তাকে কাফের বলা যাবে না। [ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়্যাহ, কিতাবুলকারাহিয়্যাহ]।

নুপুর শর্মার কটুক্তির কারণে ইতোমধ্যেই সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, ইরান ও অন্য আরও কিছু মুসলিম দেশ থেকে প্রতিবাদ জানানো শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান থেকে একটি সঙ্গিত বানানো হয়েছে, সেখানে হিন্দু ধর্ম ও হিন্দু ধর্মের অনুসারীদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন পংক্তি বানানো হয়েছে। এভাবে হিন্দু মুসলিম বিভক্তি চরম পর্যায় নিয়ে যাওয়ার এক মহাযজ্ঞ শুরু হয়েছে আমাদের উপমহাদেশীয় মুসলিম কমিউনিটির একাংশে। এসময় সুস্থ চিন্তার মানুষদের অবশ্যই সচেতনভাবে এই বিভক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোনো ব্যক্তির বা দলের ভুলের কারণে কোনো সম্প্রদায়ের সব মানুষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায় না।

বিজেপির নেত্রী নুপুর শর্মাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিজেপির এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন মাওলানা মাহমুদ মাদানি। অন্য কিছু ভারতীয় মুসলিম নেতা নুপুর শর্মার আরও কঠিন শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে আমাদের দেশেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের কোনো বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

নবীজী হযরত আয়েশা রা.-কে ছয় বছর বয়সে বিয়ে করেছেন। নয় বছর বয়সে আয়শা রা.কে নবীজীর গৃহে পাঠানো হয়। এই তথ্য সহিহ বুখারীসহ অসংখ্য হাদীস গ্রন্থে রয়েছে। কিন্তু নুপুর শর্মা যখন বিশেষ ভঙ্গিতে বলেন তখন তা অবমাননা হয়ে যায় অসতর্ক শব্দ চয়ন ও প্রশ্নবিদ্ধ বলার ঢংয়ের কারণে। কথা হচ্ছে, আমরা যখন হিন্দুদের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলি তখন কি খেয়াল করি, তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য বা অবমাননা প্রকাশ পায় কি না? কেবল ফ্যাক্ট বর্ণনা এক বিষয়, আর একটা সম্প্রদায় বা গোষ্ঠিকে হেয় ও ছোট করা ভিন্ন ব্যাপার।

গরুর গোশত আমাদের জন্য উপাদেয় খাবার, হিন্দুদের দৃষ্টিতে হারাম। এই সব বৈচিত্র আমাদের মেনে নিতে কষ্ট হলেও মেনে নিতে হবে। প্রত্যেকে যার যার ধর্ম পালন করুক। ধর্ম পালনের স্বাধীনতা অটুট রাখতে হবে আমাদের পারস্পরিক সম্প্রীতির স্বার্থে। ঘৃণা না ছড়িয়ে আসুন পারস্পরিক সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের কথা বলি। হাজার বছরের হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি অটুট রাখতে ভূমিকা রাখি। বিশেষত বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান বহু যুগ যাবৎ একসাথে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য আমাদের গৌরবের বিষয়। এটিকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যেতে হবে আমাদেরকে। দুই বাঙলাতেই এই প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কেই ভূমিকা রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে।

শেষ করব প্রিয় নবীজীর উপর দরুদ পাঠ করে। কারণ রাসূল সা. আমাদেরকে এভাবে ভারসাম্য ও উদারতার শিক্ষা দিয়েছেন। প্রেম ভালোবাসা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়েছেন। সব ধর্মমতের মানুষের সাথে মিশে চলার শিক্ষা রাসূল সা.-এর পবিত্র সিরাত থেকেই আমরা লাভ করি। সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ। ফিদাকা আবি ওয়া উম্মি ইয়া রাসূলাল্লাহ।

  • লেখক: শিক্ষক, খতিব, প্রাবন্ধিক ও গবেষক

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com