নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নজরদারি জারি রাখুন
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নজরদারি অব্যাহত রাখতেই হবে। এ ছাড়া আর বিকল্প কোনো পথ নেই। ইতোমধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ সব পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে মাঠ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। এটি দেশের মানুষের মনে স্বস্তি এনে দেব বলেই আমাদের বিশ্বাস। জনগণকে সঠিক মূল্যে পণ্য পৌঁছে দেয়া সরকারের দায়িত্ব।
মাঠ প্রশাসন চাইলেই সেটি করে জনদুর্ভোগ লাগবে অবদান রাখতে পারে। দেশের এই ক্রান্তিকালে, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের এই কঠিন সময়ে জনবান্ধব মানসিকতা জরুরি। প্রকৃতপক্ষেই মানুষের জন্য কাজের মতো স্পৃহা না থাকলে মহামারীর মতো সঙ্ককালীন সমস্যা দূর করা যাবে না। খুশিরর খবর হলো, সব পণ্যের স্বাভাবিক আনা- নেওয়া নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির দিকনির্দেশনায় সরকারি ছুটির সময়েও সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
অভিযোগ আছে, ‘বাজার মনিটরিং টিম’ বাজার থেকে সরলেই বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। এটি ঠিক নয়। ব্যবসায়িদেরও আপদকালীন সময়ে মানুষের আচরণ করা উচিত। যদিও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠে র্যাবও ছিল। কিন্তু তারপরও যে যার মতো পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। চাল, ডাল, আটা, পেঁয়াজ, রসুন ও ডিমের মতো অতিপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী বাজারে পণ্যের সরবরাহ নেই। আর এ কারণে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, বাজারে পণ্যের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এজন্যই বাজারে মোবাইল কোর্টের অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করছি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে স্বল্প ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ। তাদের পক্ষে খাদ্যের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
যাদের অর্থের অভাব নেই তারা তা টের পায় না। বলার অপেক্ষা রাখে না, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই চলমান স্থবিরতা যত দীর্ঘ হবে দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত, বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের কষ্ট বাড়বে। তাই সরকারকে যেমন শক্ত হাতে করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করতে হবে; ঠিক তেমনি অন্য বিষয়গুলোরও সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখতে হবে। আমরা মনে করি, বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নজরদারির অব্যাহত রাখতে হবে। এ অবস্থায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের কাজটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে বলেই আমরা আশাবাদি।


