পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, ছোলা ও ডিমের বাজারে তেজিভাব কমতে শুরু করেছে। স্থিতিশীল শাক-সবজির বাজারও। তবে চাল, ডাল, গরু ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, দক্ষিণ কুড়িল জোয়ারসাহারা ও গুলশানের নদ্দা বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। সামনে চালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমতে পারে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যেও বাজারে পণ্যমূল্যের স্থিতিশীলতা দেখা গেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকা কমে গতকাল ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন ১৬৮ টাকা থেকে আট টাকা কমে ১৬০ টাকায় এবং ছোলা ৭৫ টাকা থেকে ৫ টাকা কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন ১১৫ টাকা থেকে ১০ টাকা কমে বর্তমান মূল্য ১০৫ টাকা।
তবে আগের বাড়তি দামেই চাল বিক্রি হচ্ছে। মিনিকেট চাল প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকা, নাজিরশাইল ৭০-৭৫ টাকা, ২৮-২৯ জাতের পাইজাম ও মোটা চাল প্রতি কেজি ৪৮-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ও ক্যাঙ্গারু মসুর ডাল ১৩০ টাকা ও বড় মসুর ডাল কেজি ১০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি খোলা মুড়ির দাম ৭০ টাকা, খোলা আটা ৩৮ টাকা, প্যাকেটজাত ৪৫ টাকা এবং খোলা ময়দা ৫০ টাকা, প্যাকেটজাত ৬৫ টাকা। এ ছাড়া খোলা চিনি ৮০ টাকা, প্যাকেট ৮৫ টাকা, চায়না রসুন ১৩০ টাকা, দেশি ৫০ টাকা এবং আদা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের মাসুদ মাহমুদ জেনারেল স্টোরের ব্যবসায়ী মাসুদ মাহমুদ বলেন, বাজারে এখন সব কিছুর পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। তাই বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল। পেঁয়াজ, তেল, ডিমসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। সামনে চালসহ আরো বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমতে পারে।
জোয়ারসাহারা বাজারের সিয়াম স্টোরের ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘এখন বাজারে সরবরাহ প্রচুর। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট না করলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। বাজার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আস্তে আস্তে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম কমে আসবে।’
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, আলুর কেজি ২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটোল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, শজনে ১২০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা, মুলা ৩০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, লেবুর হালি ৩০ টাকা ও কাঁচকলা হালি ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জোয়ারসাহারা বাজারের সবজি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এখন সবজির ভরা মৌসুম না থাকলেও বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজি আসছে। তাই সবজির বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁর দাবি, আগের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম কমে এসেছে।’
নদ্দা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘কিছু দিন আগে প্রতিটি মাঝারি লম্বা লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় আমাদের কেনা পড়ত। এখন আমরা একই আকারের লাউ ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় কিনছি। খুচরায় বিক্রি করছি ৫০ টাকায়।’
মাছের বাজারও একই অবস্থা। বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামে। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ছোট রুই ১৮০ টাকা কেজি, এক কেজি থেকে এক কেজি ২০০ গ্রামের রুই ২৩০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের রুই ২৮০ টাকা ও দুই-তিন কেজি ওজনের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিন-চার কেজি ওজনের কাতল ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের কাতল ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক কেজি ওজনের চাষের পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা, দুই কেজি ওজনের ২০০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ১৬০ টাকা, ইলিশ এক কেজি ওজনের এক হাজার ২০০ টাকা ও ৫০০ গ্রাম ওজনের কেজি ৮০০ টাকা।
জোয়ারসাহারা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, ‘বাজারে মাছের ঘাটতি নেই, কিন্তু আড়তে মাছের দাম কমছে না। তাই আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারছি না।’
বাজারে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি ও দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি এবং গরুর মাংস ৬৫০-৬৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির ব্যবসায়ী মো. সুমন বলেন, ‘মুরগির খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় বাজারে মুরগির দাম কমছে না। খাদ্যের দাম না কমলে মুরগির দাম কমবে না।’
গতকাল টিসিবির বাজার দরে দেখা যায়, রাজধানীর বাজারগুলোতে সরু চাল (মিনিকেট ও নাজিরশাইল) প্রতি কেজির দাম ৬০-৭০ টাকা, মাঝারি মানের চাল ৫০-৫৬ টাকা ও মোটা চাল ৪৫-৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের দাম ৩০-৪৫ টাকা, আমদানির পেঁয়াজ ২৫-৩৫ টাকা। রসুন দেশি প্রতি কেজি ৪০ টাকা এবং আমদানি রসুন ৯০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ আকারভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় মিলছে।


