২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

নিত্যপণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নিত্যপণ্যের দরে কিছুটা স্বস্তি এলো এ সপ্তাহে। গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েকটি পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। চাল কেজিতে দুই টাকা, খোলা আটা পাঁচ থেকে আট টাকা, ডিম ডজনে পাঁচ টাকা, রসুন কেজিতে ১০ টাকা ও সোনালি মুরগি কেজিতে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় গাজর, আলু ও টমেটোর দাম কিছুটা বাড়লেও অন্য বেশ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

আর পেঁয়াজ, ডাল, মাছ, গরু-খাসির মাংস ও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের বাড়তি দামেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সব ধরনের নিত্যপণ্যের সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে। সামনে চালসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম কমতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাবুবাজার, ভাটারার জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ-রসুনের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, ‘এক সপ্তাহের ব্যবধানে রসুনের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এখন চায়না রসুন পাইকারি বিক্রি করছি ১১২ টাকা কেজি, খুচরায় ১২০ টাকা। দেশি রসুন পাইকারি বিক্রি করছি ৫০ টাকা কেজি, খুচরায় ৬০ টাকা। পেঁয়াজ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ৩৬ টাকা কেজি এবং খুচরা ৪০ টাকা কেজি। তবে আলুর দাম কিছুটা বেড়েছে। আলু পাইকারি ২০ টাকা কেজি এবং খুচরায় ২৫ টাকা কেজি বিক্রি করছি।’

রাজধানীর বাবুবাজার পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সলিম উদ্দিন বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহ ধরেই চালের দাম কমতির দিকে। এই তিন সপ্তাহে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজির বস্তায়) প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) বাবুবাজারে মিনিকেট (চিকন চাল) ৫০ কেজির বস্তা দুই হাজার ৯৫০ থেকে তিন হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল ৫০ কেজির বস্তা তিন হাজার ৩০০ থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইজাম ও ব্রি ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ৩০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায়।’

কারওয়ান বাজারের চিকেন মার্কেটের মুরগির ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম কমেছে। কেজিতে ১৫ টাকা কমে ২৬০ থেকে ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লারের দাম কমেনি, আগের দামেই ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগিও আগের দামে ৫৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।’

জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে সয়াবিন তেল ছাড়া তেমন কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। তবে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। খোলা আটা কেজিতে পাঁচ থেকে আট টাকা পর্যন্ত কমেছে। খোলা আটা এখন ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেট আটা আগের বাড়তি দামেই দুই কেজি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দ্রুতই দাম কমে প্যাকেট আটা বাজারে আসবে। ডিম ডজনপ্রতি পাঁচ টাকা কমে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের বাড়তি দামে মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে। মোটা ডাল ১১০ টাকা এবং চিকন ডাল ১৩৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাজারে চালের দামও কমছে। গত সপ্তাহের তুলনায় খুচরা বাজারে কেজিতে দুই টাকা কমেছে। মিনিকেট মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি, নাজিরশাইল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি ও পাইজাম ও ২৮ চাল ৫২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।’

এদিকে গতকাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, গাজর, আলু ও টমেটোর দাম বেড়েছে। এগুলো ছাড়া অন্য প্রায় সব সবজির দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে। বাজারে এখন বেগুন কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, লাউ সাইজভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৪০ টাকা, লতা ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাছ বাজারে রুই মাছ এক কেজি ওজনের ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, দেড় কেজি ওজনের ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। দুই কেজি ওজনের চেয়ে বেশি রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়। তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি, চাষের কই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৬০ থেকে ১৭০, শিং ৩৫০ থেকে ৪৫০ ও পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com