পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম বেড়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ছদ্মনামে বাসা বাসা ভাড়া নিয়ে চলছে সংগঠনের দাওয়াতি কার্যক্রম। এমনই একটি জঙ্গি সংগঠন হলো ‘আল্লাহ দল’। সংগঠনটি শিক্ষিতদের টার্গেট করে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ)।
শনিবার কুমিল্লার কতোয়ালি থানার দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া সাকিনা রামপাড়া এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ‘আল্লাহ দল’ এর পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- ‘আল্লাহ দল’ এর কুমিল্লা জেলার আমির মশিউর রহমান রাসেল, তার সহযোগী আবু সুফিয়ান, মো. সালাউদ্দিন, মো. আলাউদ্দিন ও জুলহাস হোসেন। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও সংগঠনের কার্যক্রমের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় সেখান থেকে কয়েকজন পালিয়ে যান।
আজ রোববার সকাল ১১টায় এটিইউয়ের সদরদপ্তরের কনফারেন্স এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এটিইউ এর পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত ডিআইজি হাসানুল জাহিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া জুই ও সহকারী পুলিশ সুপার ওয়াহীদা পারভিন
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য ব্যস্ততা থাকায় তারা তৎপর হয়েছে। সম্প্রতি তারা দাওয়াতি কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে তাদের সহিংস কোনো কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা জানা যায়নি। এছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এখনও তাদের সংশ্লিষ্টতাও পাওয়া যায়নি।
এটিইউ এর এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহ দল’ এর সক্রিয় সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজশে দেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করতে উগ্রবাদী মতাদর্শ প্রচারের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ও নাশকতা উদ্দেশে গোপন বৈঠকে করে। এছাড়া বিভিন্ন পরিকল্পনা, দাওয়াতি কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে একত্রিত হয়ে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মশিউর রহমান, আবু সুফিয়ান ও আলাউদ্দিন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘আল্লাহ দল’ এর জেলা নায়ক। সালাউদ্দিন জেলা প্রতিনিধি এবং মো. জুলহাস হোসেন সদস্য হিসেবে সংগঠনকে সমর্থন, সংগঠনের জন্য চাঁদার হার নির্ধারণ ও উত্তোলন, পরিকল্পনা ও প্ররোচনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা করেছে পুলিশ। অধিকতর তদন্তের জন্য রোববার তাদের আদালতে নেওয়া হবে। তখন পাঁচ দিনের রিমান্ডে আবেদন করা হবে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।


