৩০শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৪শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

নিশ্চিত হোক রোহিঙ্গাদের স্বস্তিদায়ক জীবনযাত্রা

ভাসানচরে স্থানান্তর

নিশ্চিত হোক রোহিঙ্গাদের স্বস্তিদায়ক জীবনযাত্রা

ভাসানচরে যাওয়ার ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের সুমতি এ-সংক্রান্ত সব অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছে। প্রথম দুই ধাপে ৩ হাজার ৪৫০ রোহিঙ্গাকে নেওয়া হয়েছিল ভাসানচরে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে যারা গেছেন তাদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারকে মাথার ঘাম ফেলতে হয়। কিন্তু তারা ভাসানচরে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন সেখানে যাওয়ার বিরোধিতা করে যারা অপপ্রচার চালিয়েছে তাদের বক্তব্য পুরোটাই ভুয়া।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের তুলনায় ভাসানচরে তাদের থাকার যে ব্যবস্থা রয়েছে তা স্বর্গতুল্য। দ্বিতীয় ধাপে যারা ভাসানচরে গেছেন তাদের উদ্বুদ্ধ করতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। ভাসানচরে পুনর্বাসিতদের বার্তা পেয়ে তৃতীয় ধাপে আজ ও আগামীকাল আরও ৩ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সেখানে ঠাঁই নেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ভাসানচরে এর মাত্র এক-দশমাংস অর্থাৎ ১ লাখের বেশি লোককে নেওয়া যাবে। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সিংহভাগ ভাসানচরে যেতে চাইলেও নেওয়া সম্ভব হবে না। তবে ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নেওয়া হলে কক্সবাজারের শিবিরগুলোয় গাদাগাদিভাবে যারা মানবেতর পরিবেশে বাস করছিলেন তারাও আগের চেয়ে ভালোভাবে থাকতে পারবেন। ভাসানচরে যারা আশ্রয় নিছেন তাদের জীবনযাত্রার সহায়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড। প্রথম পর্যায়ে ৫০ জনকে নিয়ে পাঁচ গ্রুপে ২৫০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা হাঁস-মুরগি, গবাদি পশু পালন, মাছ চাষ, কুটির-সূচি শিল্পসহ নানা বিষয়ের প্রশিক্ষণ পাছেন।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের ওপর চাপ কমাতে শুক্রবার নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে ১৬৪২ জন রোহিঙ্গাকে ৭টি জাহাজে করে ভাসান চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা ও হাত ধোয়ানো শেষে তাদের ক্যাম্পে থাকার নিয়মকানুন সম্পর্কে ব্রিফ করে নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা। এরপর প্রতিটি পরিবার যার যার ঘর ও মালপত্র বুঝে নেন। জানা গেছে ২২টি আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের মানবিক সহায়তা দিতে ভাসানচরেই অবস্থান করছে। প্রথম কয়েকদিন নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানেই রোহিঙ্গাদের খাবার সরবরাহ করা হবে।

ভাসানচরে থাকার জন্য মানসম্মত নতুন পাকা ঘর এবং বসবাসের মতো স্বাস্থ্যসম্মত এলাকা পেয়ে উছ¡াস প্রকাশ করেছেন রোহিঙ্গারা।

কুতুপালং ১৭ নম্বর ক্যাম্প থেকে আসা আরোপা বেগম বলেন, জাগা দেকি, বাসা দেকি ভালা লাগসে। ওহানে পাহাড়, বাচাকাচা খেলাইতো পারে না। গরু চরতে পারে না। এখানে তো সব সমান। ভালো লাগসে। লালু বেগম বলেন, ওহানে তো দুযোখো ছিলাম। এহানে জাগা বড়, সমান। এখানে নিরাপত্তা আছে। পানি আছে, বাথরুম আছে। আমাদের কষ্ট করতে হবে না। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর করতে ২০১৭ সাল থেকেই দ্বীপটিতে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প হাতে নেয় বাংলাদেশ সরকার।
ভাসানচরে স্থানান্তরের আগে সব আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে একটি স্বাধীন কারিগরি ও সুরক্ষাগত মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছিল জাতিসংঘ।

সেটা ছাড়াই রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি। আমাদের প্রশ্ন হল, এতো তাড়া কেন? কোন টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট ছাড়া তাদের এতো তাড়াতাড়ি শিফট করা উচিত হয়নি। এটা তো একটা চর। এখানে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় হয়, এখানে মানুষের থাকা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকার এই ঝুঁকি কেন নিল? তাদের উচিত ছিল আরও সময় নিয়ে সঠিক নিয়মে আগানো। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এমন উপকরণ দেওয়া হবে। রোহিঙ্গাদের জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এসব প্রশিক্ষণ ভূমিকা রাখবে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত হছে এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। ভাসানচরে সে ধরনের র্দুর্বৃত্তপনার কোনো সুযোগ যাতে না থাকে সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com