মাওলানা আমিনুল ইসলাম : আমাদের দেশের কিছু কিছু ইসলামী দলের নীতি আদর্শ বলতে কিছু নেই। ওনাদের আচার-আচরণ এখন দুনিয়াবী রাজনৈতিক সংগঠনের মত। রাজনীতিতে লেভেল দিয়েছেন দেওবন্দী। নিজেদের দাবী করেন আকাবির আসলাফের অনুসারী। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এখন ওনাদের মধ্য থেকে দেওবন্দীয়্যাত বিদায় নিতে শুরু করেছে। আকাবির আছলাফের মত পথ থেকে সরে জাগতিক সংগঠনের আদর্শ আঁকড়ে ধরেছেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, প্রচলিত রাজনীতিবীদগণের মত এখন ওনারা। কিভাবে আরেক সংগঠনকে দাবানো যায়, কিভাবে অন্য সংগঠনের নেতা কর্মির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে তাদের কোনঠাসা করা যায়, সেই ফন্দি ফিকির নিয়ে থাকেন।
আফসোস হয় তাদের জন্য, যারা এই বিষোদগার গুলো করছেন, তারা কেউ অবুঝ নয়। সবই নামী দামী লোক। নিজেদের নামের আগে অনেক টাইটেল। আবার তারা বিভিন্ন মাদরাসার কর্ণধর। এত কিছুর পরেও ওসব ব্যক্তিবর্গ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক সংগঠনকে তুলোধুনো করছেন। তাদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। যেটা খুবই দুঃখজনক।
নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য অন্য সংগঠনের প্রধান সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কি কোন দেওবন্দী মাসলাকে বিশ্বাসী দলের আদর্শ হতে পারে? তিনি কিসের ভিত্তিতে আরেকজনকে অপবাদ দিলেন। তিনি কি কোরআন হাদীস পড়েন নি? শুনেছি, খাদিমানী সাহেব বড় মাপের আলেম। তাহলে আরেকজন আলেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কি কোন আলেমের পরিচয়?
দেওবন্দীয়্যাত দাবী করে এমন ব্যক্তি, সে যদি জমিয়ত না করে তাহলে সে দেওবন্দের জারজ সন্তান। এই ফতোয়া তিনি কোথায় পেলেন? খাদিমানী সাহেবের বক্তব্যে এদেশের হক্কানী আলেমদের জারজ সন্তান বলে আখ্যা দিলেন। এই বাড়াবাড়ি কি কোন আলেমের শান?
আসলে ওনাদের মত কিছু ইসলামী দল এবং কিছু নামধারী আলেম নীতি আদর্শ থেকে ছিটকে পড়েছেন। নামেই শুধু দেওবন্দী। কিন্তু দেওবন্দীয়্যাত বলতে কিছুই নেই।
বিগত নির্বাচনে ওনারাই কিন্তু দেওবন্দীয়্যাত এর মুলে কুঠারাঘাত করেছেন। আকাবির আসলাফের রেখে যাওয়া আমানতে খেয়ানত করেছেন। শুধু মাত্র ক্ষমতা লাভের আশায় নবী-সাহাবী এবং ওলামায়ে দেওবন্দের চরম দুশমুন, মওদুদী মতবাদে বিস্বাসী সংগঠনের সাথে হাত মিলিয়ে ছিলেন।
এজন্য ওনারা এখন নামেই দেওবন্দী। শুধু দেওবন্দের লেভেল। কাজে কর্মে সবই দেওবন্দী আদর্শের খেলাফ কাজ করেন।
আল্লাহ সকল কে সহীহ বুঝ দান করুন। আমিন।


