৩০শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৯শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

নুসরাত ও মনিরের হত্যাকারীদের শাস্তি চায় কওমি প্রজন্ম

পাথেয় রিপোর্ট : ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি ও ডেমরায় শিশু মনিরের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কওমি মাদরাসা ছাত্রদের সংগঠন কওমি প্রজন্ম।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে প্রখ্যাত ওয়ায়েজ মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা বাংলাদেশে বসবাস করি। কিন্তু আজকে অপরাধ এত সতেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরে আমরা শঙ্কায় থাকি বিচার হবে কী না! বরং বিচার হবে না এটাই আমাদের ধরে নিতে হয়। কারণ, বাংলাদেশের সংস্কৃতি আজ বিচার না হওয়ার সংস্কৃতিতে দাঁড়িয়েছে। তনু হত্যার আজ পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। সিলেটের খাদিজার ওপর হামলাকারীর বিচার হয়েছে তবে তা প্রত্যাশিত ও দৃষ্টান্তমূলক হয়নি। এভাবেই লম্পট ধর্ষক এবং যৌন হয়রানির হোতারা সহজে পার পেয়ে যায়। তিনি বলেন, অপরাধীদের বিচার হোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক; এটাই দাবি আমাদের।’

মানববন্ধন থেকে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন তারা।

প্রস্তাবনাগুলো হলো—নারীর প্রতি নিপীড়নরোধে তাদের জন্য পর্দাবিধান পালন করার স্বাভাবিক ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে চিন্তা করার মানসিকতা দূর করতে নারীকে পণ্যরূপে উপস্থাপনের বিপক্ষে সার্বিক ব্যবস্থা নিতে হবে। নারীর প্রতি নিপীড়ন রোধে ইসলামের মূল্যবোধসহ ধর্মীয় মূল্যবোধ বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে। দেশে নারীর প্রতি নিগৃহের বিপক্ষে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। ধর্ষণের শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে। থানায় মামলা নিতে গড়িমসি করার বিপক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ধর্ষণ মামলা পরিচালনার জন্য পুলিশ ছাড়াও সরকারিভাবে স্পেশাল বাহিনী তৈরি করতে হবে।

মানববন্ধনে জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কলরবের পরিচালক রশিদ আহমেদ ফেরদাউস, যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, কওমি প্রজন্মের প্রতিনিধি হাফেজ মুফতি আ. কাইয়ুম মোল্লা, আ. রহমান কোব্বাদী ও কওমি প্রজন্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এর আগে তাকে যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ অভিযোগে নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়।

বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান। নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১০।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com