পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু

পঞ্চগড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পঞ্চগড় জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে এখানে ৯ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। বিকাল থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘনকুয়াশার পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা মৃদু হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।

একটানা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রার বেশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। রাতে ও সকালে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। আবার দিনের মধ্য ভাগে রোদের প্রচণ্ড তাপ চারিদিকে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল শনিবারও এখানে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ থেকে এখানে শীতের প্রকোপ আরো বাড়বে।

ঘনকুয়াশার পাশাপাশি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। তিনি আরো জানান, দিনের বেলায় রোদের তেজ বেশি থাকায় রবিবার ২৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও গতকাল শনিবার ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আদ্রতা এই জেলায় ৯৩ থেকে ১০০ শতাংশ এবং প্রতিঘণ্টায় ২ থেকে ৫ নটিকেল মাইল বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে।

দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনগুলো দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ বিপাকে পড়েছে। তাদের কাজে যোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেকে কাজ না পেয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছে। পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার সাতখামার এলাকার খতিবুর রহমান জানান, শীত আমাদের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য ভয়াবহ ব্যাপার।

আমাদের তো গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। পুরোনো কাপড় আর খড়কুটো জ্বালিয়েই আমাদের শীত নিবারণের প্রস্ততি নিতে হচ্ছে। পঞ্চগড় শহরের ডোকরোপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মজিরুল ইসলাম জানান, অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে সারা দিন সূর্যের মুখ দেখা যেত না, মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারতো না। উত্তরের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হতো। কিন্তু এবার শীতের পরিস্থিতিটা একটু ব্যতিক্রম। রাত ও সকালে কনকনে ঠান্ডা থাকলেও সূর্য উঠলে তেজদীপ্ত রোদ উষ্ণতা ছড়াচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলা পরিবেশ পরিষদের সভাপতি ও পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের ভুগোল ও পরিবেশ বিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তৌহিদুল বারী বাবু জানান, কুয়াশা ফরমেশন কম হচ্ছে। এতে দিনের বেলা তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রার মতোই। বিকাল থেকে তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, শীতবস্ত্রের চাহিদা দিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগির আরো শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া যাবে। জেলা প্রশাসক সরকারের পাশাপাশি সব বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সামর্থ্যবানদের শীতার্তদের রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *