২৪শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২২শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

পঞ্চগড়ের পর্যটন প্রকল্প শুরু হয়নি আড়াই বছরেও

পঞ্চগড়ের পর্যটন প্রকল্প শুরু হয়নি আড়াই বছরেও

পাথেয় টোয়েন্টিফের ডটকম :  দেশের একেবারে উত্তর প্রান্তের জেলা পঞ্চগড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। এরপর আড়াই বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পের কোনো ভৌত কাজই শুরু হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জমি সংকটের কারণেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে জমি অধিগ্রহণসহ প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর সংশোধনীর এই উদ্যোগে ‘পঞ্চগড়ে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদও বাড়ছে দেড় বছর।

পরিকল্পনা কমিশন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানোর পর প্রথম প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনে। গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান রামচন্দ্র দাস।

ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। কিন্তু জমি নিয়ে জটিলতাসহ নানা কারণে এখন ১৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছ ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য শুরুতে সময় দেওয়া হয়েছিল তিন বছর— ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। সংশোধনীতে দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ প্রস্তাব করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা-১) নুরুল ইসলাম বলেন, জমি নিয়ে জটিলতা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। পিইসি সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০১৮ সালে অনুমোদিত হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভৌত কাজ শুরু করা যায়নি। অনুমোদিত ডিপিপিতে জমিটি বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বাপক) নিজস্ব জমি দেখানো হয়েছে। ডিপিপি অনুমোদনের পর পঞ্চগড়ে করপোরেশনের নিজস্ব জমিতে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সঙ্গে জটিলতা দেখা দেয়। এসময় জমি নিয়ে মামলাও হয়।
করপোরেশন সূত্র বলছে, ওই মামলায় পর্যটন করপোরেশন মামলায় হেরে যায় এবং জমির মালিকানা দেওয়া হয় সড়ক ও জনপথ বিভাগকে। অনুমোদিত প্রকল্পের অধীন পঞ্চগড়ে পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রকল্পের জমির অধিগ্রহণ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্তে জমির অধিগ্রহণের ব্যয়সহ প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সংশোধিত ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রণয়নের জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নতুন করে জমি বন্দোবস্ত বা অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসককে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর চিঠি পাঠানো হয়। পরে জেলা প্রশাসন, পঞ্চগড়ের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে এক একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নির্বাচন করেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জমিটি পঞ্চগড় বাংলাবান্ধা মহাসড়কের বাম পাশে অবস্থিত ডাঙ্গা শ্রেণির জমি। এ জমির বিপরীতে রাস্তার অন্য পাশে পণ্যবাহী ট্রাক মাপার ওজন স্কেল ও পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস অবস্থিত। জমিটি পঞ্চগড় শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। শহরের উপকণ্ঠে উপযুক্ত খাস জমি না পাওয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি নির্বাচন করা হলেও অবস্থানগত কারণে জমিটিকে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচিত ওই এলাকার জমি প্রতি শতক ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জমির দাম তিন গুণ ধরে এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যয় যোগ করে জমির আনুমানিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকায়। বিষয়টি পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসন থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

জমি নির্ধারণ করার পর জমির মূল্যসহ নতুনভাবে প্রকল্পের ড্রইং ও ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়। ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় কাজটি গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। তাই গণপূর্ত অধিদফতর প্রকল্প প্রাক্কলনসহ সংশোধিত ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকায়।

সংশোধিত এই ডিপিপি ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের সুবিধা বাড়িয়ে মোট ব্যয় অনুমোদিত ব্যয়ের ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমিত রেখে সংশোধিত ডিপিপি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেয়। এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি জানান, প্রকল্পের মোট ব্যয় বৃদ্ধি ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলে সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন মন্ত্রণালয় দেওয়ার সক্ষমতা রাখে বলে চিঠিতে জানানো হয়।

অন্যদিকে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রতিনিধি জানান, ডিপিপি প্রণয়ন পদ্ধতিমালা অনুযায়ী জমির দাম ডিপিপিতে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে অধিগ্রহণ করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম নেওয়া হবে।

আর গণপূর্ত অধিদফতরের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ডিপোজিট ওয়ার্কের আওতায় যাবতীয় নকশা স্থাপত্য অধিদফতর থেকে প্রণয়ন করা হয়। তাই প্রকল্পের পিআইসি স্থাপত্য অধিদফতরে প্রতিনিধি কো-অপ্ট করার সুপারিশ কর হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com