পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : হঠাৎ করেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’নেইল। দীর্ঘ সাত বছর দেশটির এই প্রধানের দায়িত্ব পালন শেষে রবিবার তিনি এই ঘোষণা দেন।
দলের বেশ কয়েকজন নেতা পক্ষ ত্যাগ করে বিরোধী দলে যোগ দেওয়ায় পদত্যাগ করেছেন পাপুয়া নিউগিনির প্রধানমন্ত্রী পিটার ও’নেইল। সাত বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা ও’নেইল বিভিন্ন ইস্যুতে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপে ছিলেনে। পদত্যাগের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও এতোদিন ধরে তিনি এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন।
দেশটির বিরোধীদলীয় রাজনীতিবিদরা শুক্রবার (২৪ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছিলেন, ‘সরকার পরিবর্তন হলে ইউএসবি কর্তৃক আয়োজিত ঋণের জন্য তারা ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৮৩০.৭৬ মিলিয়ন ডলার) ঋণে অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে তদন্তের জন্য চাপ দিবেন।’
এসবের প্রেক্ষিতে একই দিন তিনি ঘোষণা করেন, ক্ষমতা অব্যাহত রাখার জন্য তার আর কোনো সমর্থন নেই। যে কারণে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার জুলিয়াস চানের কাছে নিজের ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলেছেন।
দেশটির রাজধানী পোর্ট মোরেসবিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ও’নেইল বলেছেন, দেশে স্থিতিশীলতা রক্ষা করাটা জরুরি। আমরা দাবির প্রতি কর্ণপাত করেছি এবং সরকার পরিবর্তনে সম্মত হয়েছি।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনির বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। দেশটিতে বর্তমানে একটি স্থিতিশীল ও মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তর চান স্যার জুলিয়াস। তিনি বলেছেন, ‘পাপুয়া নিউ গিনিকে আজকের এই অবস্থায় আনার পেছনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পিটার ও’নেইল যতটুকু অবদান রয়েছে তার জন্য তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’
তিনি আরও বলেছেন,‘দেশের সকল নারী ও পুরুষদের বলছি, আমাদের স্মৃতি খুব সংক্ষিপ্ত। আগামী দিনে আপনাদের অবশ্যই পিছনে ফিরে তাকাতে হবে এবং দেখতে পাবেন তিনি (ও’নেইল) ঠিক কি করেছেন। তবে জীবনের নিয়মেই আপনাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের দুটি কোম্পানির সঙ্গে কয়েক শ’ কোটি ডলারের গ্যাস প্রকল্প স্বাক্ষর নিয়ে চাপে ছিলেন ও’নেইল। যদিও চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের প্রায় দ্বিগুণ পিএনজি গ্যাস রপ্তানি হবে। কিন্তু স্থানীয় কোম্পানিগুলো এই লাভ থেকে বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।


