পবিত্র কুরআনের প্রথম পারার খোলাসা

পবিত্র কুরআনের প্রথম পারার খোলাসা

  • মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান কাসেমী

পবিত্র কুরআন শরীফের মোট ত্রিশ পারা রয়েছে। আজ আমরা আলোচনা করব একদম প্রথম পারার সার সংক্ষেপ।

সুরা ফাতিহা হচ্ছে আল কুরআনের ভূমিকা। ভূমিকার পর প্রথম সুরা হচ্ছে বাকারা। বাকারা অর্থ গাভী। গাভী নিয়ে এক বিস্ময়কর ঘটনা আছে এ সুরার প্রথম পারায়। ৬৭-৭১ নং আয়াত দ্রষ্টব্য।

সুরা বাকারার বিষয়বস্তু সম্পর্কে এককথায় বললে বলা যায়, এ সুরায় মানবজাতিকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অন্য সব মাখলুকের কোনো পরকালীন লক্ষ্য নেই। তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে। মানুষের পরকালীন লক্ষ্য আছে। মানুষকে লক্ষ্যহীন করে পয়দা করা হয়নি। মানুষের জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য উদ্দেশ্য আছে।

মানব জাতিকে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা তার খলীফা বানিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ইন্নি জাইলুন ফিল আরদি খলীফা..। আমি পৃথিবীতে খলীফা পাঠাব। খলীফা অর্থ প্রতিনিধি। মানুষ পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফা তথা প্রতিনিধি। আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব যে করবে তার নিজেকে প্রথমে ইমান ও আমল দ্বারা সুসজ্জিত করতে হবে।

প্রথম পারার পুরো বিষয়টিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।

একদম প্রথম এই প্রতিনিধিত্ব বা খেলাফতের দায়িত্বের ক্ষেত্রে পুরো মানবজাতিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমে মুমিন, তারপর কাফির, তারপর মুনাফিক। প্রত্যেক প্রকার মানুষের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। তুলনামূলক মুনাফিকদের অবস্থা কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ৮-২০ নং আয়াত দ্র.।

দ্বিতীয় ভাগে প্রথম খলীফা প্রথম মানব হযরত আদম আ.-এর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাকে সৃষ্টির পূর্বে ফেরেশতাদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। আদমকে ইবলিস সেজদা করেনি সে কথাও বিবৃত হয়েছে। ইবলিস যে মানবজাতির চরম ও প্রকাশ্য দুশমন সেই বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় ভাগে অতীত একটি জাতির কথা আলোচনা করা হয়েছে, যারা আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্বে চরম অবহেলা করেছে এবং দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। এই জাতি হলো ইহুদি জাতি। ইহুদিদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে সুরা বাকারার প্রথম পারায়।

এই ভাগেই বানু ইসরাইলের সেই গাভীর ঘটনাটি বিবৃত হয়েছে। আল্লাহ ইহুদিদের হুকুম দিয়েছিলেন, যেন তারা একটি গাভী জবাই করে। তারা হুকুম না মেনে বারবার প্রশ্ন করছিল। অবশেষে তারা গাভীটি জবাই করে এবং যে লক্ষ্যে গাভী জবাইয়ের হুকুম দেওয়া হয়েছিল তা অর্জিত হয়।

চতুর্থ ভাগে এদের বিপরীতে একজন উত্তীর্ণ মানুষের কথা বলা হয়েছে। যিনি যথার্থভাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছেন। তিনি একজন ব্যক্তি হলেও তিনি এক উম্মাহর সমান ছিলেন। তিনি হযরত ইবরাহিম আ.। আল্লাহ তাকে অনেকগুলো পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি সবগুলো পরীক্ষায় শতভাগ কৃতকার্য হন। আল্লাহ তখন বলেন, আমি তোমাকে মানবজাতির ইমাম বানাব। ১২৪ নং আয়াত দ্র.।

এভাবে ১৪১ টি আয়াত শেষ হয়।

এরপর আল্লাহ আখেরি পয়গম্বরের উম্মতের বৈশিষ্ট্য আলোচনা শুরু করেন। তাদের যে গুরু দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

লেখক: শিক্ষক, খতিব, প্রাবন্ধিক ও গবেষক
ফেসবুক টাইমলাইন থেকে সংগৃহিত

https://www.facebook.com/faijullahaman/posts/1857304427964097

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *