২৫শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

পাকিস্তানের ভিত্তি; একটি নির্মোহ পর্যালোচনা | ফয়জুল্লাহ আমান

মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি উর্দু ভাষার উচু স্তরের সাহিত্যিক। বেশ কটি সাপ্তাহিক ও দৈনিকের সম্পাদক ছিলেন তিনি। সাধারণ শিক্ষিত হলেও তাঁর ধর্মীয় জ্ঞানের চর্চা ছিল অনেক উচ্চমানের। মুসলিম দার্শনিক হিসেবে তিনি সব মহলে সমাদৃত। মাওলানা আশরাফ আলি থানভী রহ.-এর মুরিদ ছিলেন। থানভী মাসলাকের অধিকাংশই পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষ নেওয়ায় মাওলানা দরিয়াবাদিও সেই প্রভাবে প্রভাবিত ছিলেন। এ প্রবন্ধটি তিনি লিখেছেন দেশভাগের একুশ বছর পর। সেখানে তিনি মাওলানা মাদানীর একজাতিতত্ত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। অকপটে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর। এই নিবন্ধের ঐতিহাসিক মূল্য অপরীসিম। পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর পাঠকের জন্য সিয়াসি ডায়েরী থেকে অনুবাদ করেছেন জামিআ ইকরা বাংলাদেশের মুহাদ্দিস মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান।

পাকিস্তানের ভিত্তি; একটি নির্মোহ পর্যালোচনা

মাওলানা আব্দুল মাজেদ দরিয়াবাদি রহ.

পাকিস্তানের প্রথম প্রস্তাবক ধরা হয় চৌধুরি রহমত আলিকে। পাকিস্তান শব্দটি তারই সৃষ্টি। টেমস নদীর তীরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করেই তার মাথায় এ শব্দটি আসে। যা হোক, চৌধুরি রহমত আলি হন আর আল্লামা ইকবাল হন পাকিস্তান প্রস্তাবের পক্ষের মূলে যারা ছিলেন তাদের কেউ আলেম ছিলেন না। এমনকি তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিও ধর্ম ছিল না। মুসলমানদের এ অভিযোগ ছিল না যে, অখণ্ড ভারতে আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা শঙ্কায় রয়েছে। বা আমাদের নামাজ রোজা করতে বাধা আসছে। অথবা আমাদের ইসলামি প্রতীকগুলি মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইসলামের তাবলিগ করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আমাদের পোশাক, খাদ্য ও অন্যান্য বিষয় মুসলিম কৃষ্টি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

অভিযোগ যা ছিল তা হচ্ছে জাতীয় বিষয়ে হিন্দুদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির। ধর্মীয় বিষয়াদিতে হিন্দুদের হস্তক্ষেপের কোনো অভিযোগ ছিল না। হিন্দুরা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছে, তারা আমাদেরকে উপরে উঠতে দেয় না। ব্যবসা, শিক্ষা, রাজনীতি, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিটি বিভাগ এবং প্রতিটি দফতরের দরজা আমাদের জন্য বন্ধ। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদেরকে নিচে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দূর হলে আমরাও উন্নতি করতে পারব। আমাদের সাধ পূরণের পথ খুলে যাবে। জীবনের সব সফলতা ও উচ্চতায় আমরাও পৌঁছতে পারব। তাদের ভাষা যা হোক তাদের অন্তরে অভিযোগ এটাই ছিল। এই জাতিগত নিপীড়নের অনুভূতি মুসলমানদের জবানে তিক্ততা সৃষ্টি করে দিয়েছিল। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় তাদের এই বুঝে এসেছিল যে, দেশের কিছু অংশ নিজেদের জন্য আলাদা করে নেওয়া হোক। যেখানে স্বাধীনভাবে ন্যায় ও নিরাপত্তার সাথে নিশ্চিন্ত বসবাসের সুযোগ এসে যাবে। চিরদিনের অন্যায় অবিচার থেকে চিরমুক্তি লাভ হবে।

বর্তমান বর্ণভিত্তিক, ভাষাগত, ভৌগলিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষ্টিগত সীমাহীন জটিলতা এই আলিমরা বুঝতে অক্ষম ছিলেন

পরবর্তীতে এই চেতনার প্রধান ধারক ছিলেন জিন্না সাহেব। মুসলমানরা তাকে কায়েদে আজম নাম দিয়েছে। মুসলিম জাতির মাঝে তার যে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখা গেছে এমন গ্রহণযোগ্যতা কোনো বড় আলিম বা পীর বুযুর্গেরও কখনও দেখা যায়নি। পাকিস্তান দাবির ভিত্তি যদি ধর্মীয় হত তাহলে স্পষ্টই কোনো বড় মৌলভী বা সুফির হাতে জনতা বাইআত হতো। খোদ জিন্না সাহেবের ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে চারদিক থেকে সমালোচনা শুরু হতো। মাওলানা মৌলভীরা তার বাহ্যিক অবস্থা ও চিন্তা চেতনার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিতেন। মাওলানা মৌদুদি- যিনি পাকিস্তান আন্দোলনের সময় গণতন্ত্র ও সাবালকদের ভোটের অধিকার, ভোটাধিকার ইত্যাদি আন্দোলন থেকে দূরে ছিলেন- তিনি কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তান দাবীর বিরোধিতা করতেন না। বরং তিনি জিহাদ মনে করে জিন্না সাহেবের সমর্থক ও সহযোগী হয়ে যেতেন। কিন্তু তিনিও তখন তেমন করেননি।

পাকিস্তান আন্দোলন একসময় সবখানে ছড়িয়ে পড়ল এবং এর ভিত্তি সুদৃঢ় হয়ে গেল। সাধারণ মুসলমানরা তখন সরলমনে স্বাভাবিকভাবেই এ চিন্তা করল যে, মুসলমানদের হাতে একটি রাষ্ট্র আসলে আবশ্যিকভাবেই সেখানে ইসলামি আইন জারি হবে। এ প্রবঞ্চনায় পড়া অসংখ্য সাধারণ মানুষের ভেতর আমি অধমও ছিলাম। আমি তখন ‘সিদ্ক’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলাম। এই চরম ভুল চিন্তায় আমিও তখন আচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম। এ চিন্তার সাথে একাত্ম অনেক তাহাজ্জুদ গুযার আলেমও ছিলেন সত্য। কিন্তু এসব বেচারা আলেমরা বর্তমান সময়ের রাজনীতির সূক্ষ্ম প্যাঁচ সম্পর্কে কিছুই বুঝতেন না। তাদের ভাবনায় রাষ্ট্র ও সরকারের সে সব ভাবনা-ই ছিল- যা আজ থেকে হাজার বছর আগে ক্রুসেডের সময়ে ছিল। যখন মুসলিম অমুসলিমদের মাঝে যখনই কোনো যুদ্ধ শুরু হতো খুব সহজেই তা ধর্মীয় জিহাদের রূপ পরিগ্রহ করত। এসব আলিমরা সেই হাজার বছর আগের সময়ে পড়ে ছিলেন। সরকার আর রাষ্ট্রব্যবস্থার পুরনো ধ্যান ধারণা নিয়েই তারা ছিলেন। বর্তমান বর্ণভিত্তিক, ভাষাগত, ভৌগলিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও কৃষ্টিগত সীমাহীন জটিলতা এই আলিমরা বুঝতে অক্ষম ছিলেন। ইসলামি ভ্রাতৃত্বের শ্লোগান ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও মোহনীয়। একথা কারও ভাবনায় উদিত হচ্ছিল না যে, পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমের বেলুচিস্তান ও সিন্ধুর আবহাওয়া এক নয়। তাদের ভাষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পোষাক ও সংস্কৃতিও ভিন্ন।

এসব ভিন্নতা যে ধর্মের অভিন্নতা সত্ত্বেও রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে তা তাদের ভাবনায় আসেনি। ধারণা আর কল্পনা থেকে অগ্রসর হয়ে যখন বাস্তবের মুখোমুখি হলেন তখন তারা উপলব্ধি করতে পারছেন ধর্মের অভিন্নতার ভিত্তি আজকের দিনে কতটা অর্থহীন। কেমন হওয়া উচিত ছিল সে প্রশ্ন নয়; প্রশ্ন হলো, এখন কী হচ্ছে? পার্থিব স্বার্থের দ্বন্দ্ব যখন পশ্চিমের সাথে পুবের হলো তখন বিরোধের যত মানবীয় নীচতা রয়েছে স্বশক্তিতে তা জেগে উঠল। আগে যে ধরনের বিরোধ হিন্দু মুসলমানের ভেতর হতো, এখন তা মুসলমান মুসলমানের ভেতর তৈরি হয়েছে। যেই বর্বরতা ও পশুত্ব তুর্কি ও আরবদের, মোগল ও পাঠানদের, আব্বাসি ও বনু উমাইয়াদের পারস্পরিক রক্তারক্তি ও পাশবিকতা জাগিয়ে তুলেছিল তা আজ এ বিংশ শতাব্দীতে পূর্ব পশ্চিমের লড়াইয়ে কিভাবে বিবশ হয়ে থাকতে পারে? আজ থেকে হাজার বছর আগে যদি তাদের ধর্মবোধ তাদেরকে নিয়ন্ত্রিত করতে না পেরে থাকে তাহলে কিভাবে আশা করা যায় যে, আজকের মুসলমানরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করবে? হাজার বছর আগের সেই সময়ে ইসলাম দুর্বল থাকলেও তখনও মানুষের হৃদয়ে ইসলামের যে প্রভাব ছিল তার সামান্য অংশও এখন নেই। সর্বশেষ যেসব যুদ্ধ ধর্মের নামে হয়েছে তা চতুর্দশ শতকেই শেষ হয়েছে। তারপর ছোট ছোট কিছু ঘটনা বাদ দিলে কয়েক শ বছর ধরে জিহাদের নামও কোথাও শোনা যায় না। এমন কি কিছু দিন আগে ইসরায়েলের সাথে আরব বিশ্বের যে যুদ্ধ হলো সেখানে কোনো মুসলিম দেশ এ সাহস করলো না যে, তারা তাদের এ যুদ্ধকে জিহাদ নাম দিবে।

একটি রাষ্ট্র পরিচালনার পথে কি ধরনের জটিলতা আসতে পারে সেসম্পর্কে তাদের কোনো ধারনাই ছিল না

এখন মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রহ. এর রাজনৈতিক চিন্তাধারার সাথে কারও ঐকমত্য থাকতে পারে আবার ভিন্নমতও থাকতে পারে। কিন্তু তার সেই একটি বাক্য তো বাস্তব হয়ে দেখা দিচ্ছে। তার একথা কোনোভাবেই ভুল ছিল না যে, “জাতি গঠিত হয় দেশ বা ভূখণ্ড দ্বারা।” ‘জাতি গঠিত হওয়া উচিত’ – এমন কথার কোনো প্রশ্ন নয়। বাস্তবতা হচ্ছে জাতি গঠিত হচ্ছে ভূখণ্ড দিয়েই। ঘটনা যতই দুঃখজনক হোক, তার বাস্তবতা অস্বীকার করার অবকাশ নাই। ধর্মের অভিন্নতার জাদু আজ কোথায় চলছে? ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের ভেতর আজ কোথায় আছে? কোন্ মুসলিম রাষ্ট্র আজ ইসলামি জাতীয়তার কথা বলছে? এ চিন্তা কোনোভাবেই আজকের দুনিয়ায় বাস্তবসম্মত নয়। জামালুদ্দিন আফগানির প্যান ইসলামিজমের পর তাহরিকে খেলাফত ছিল ইসলামি ভ্রাতৃত্বের শেষ আন্দোলন। এই খেলাফত আন্দোলন খুব জোরদারভাবে ভারতবর্ষের মুসলমানদের ভেতর জারি হয়েছিল। কিন্তু ভারতের বাইরে কেউ এ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করেনি। এক পর্যায়ে ভারতের মুসলমানরাও পরাস্ত ও অবসন্ন হয়ে বসে গেল। এখন তো এমন অবস্থা, সেই খেলাফতের দাবী কেউ মুখে আনবে এমন লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা শওকত আলি আরও বেশ কবছর বেঁচে ছিলেন। আরেকজন নেতা হসরত মোহানি তো আরও বিশ বাইশ বছর বেঁচে ছিলেন। তারাও কখনও আর খেলাফত প্রতিষ্ঠার কথা মুখে আনেননি। মুসলিম বিশ্বে এ কবছরে আরও পরিবর্তন এসেছে। ভীরুতা ও কাপুরুষতা মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছে। এখন তো এমন কথা ভাবার কোনো অর্থই হয় না।

পাকিস্তান প্রস্তাবের কাছাকাছি দৃষ্টান্ত হচ্ছে আলিগড় আন্দোলনের চিন্তা। স্যার সৈয়দ এ আন্দোলনের যাত্রা শুরু করলেন। স্যার সৈয়দের মৌলিক চিন্তা ছিল মুসলমানদের পার্থিব কল্যাণ। যারা এই আলিগড় থেকে পড়ে বের হবে তারা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। উকিল, ব্যারিস্টার, জজ, ম্যাজিস্ট্রেট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী হতে পারে। সাথে সাথে ইসলাম ধর্মের উপরও টিকে থাকতে পারে। ইসলামের শাআইরগুলি যেন তারা রক্ষা করতে পারে। ধর্মের বাইরে যেন কেউ না যায়। দ্বীনি বোধের দ্বারা যেন তারা অনুপ্রাণিত হয় এ উদ্দেশ্যও ছিল কিন্তু তার মূল উদ্দেশ্য ছিল যেন এখান থেকে পড়াশোনা করে মুসলমানরা পার্থিব সাফল্য পেতে পারে। দ্বীনি সাফল্যও লক্ষ্য ছিল কিন্তু মৌল নয়। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাফল্য লাভের মৌলিক কোনো প্রেরণা আলিগড় আন্দোলনের ছিল না।

পাকিস্তানের আসল উদ্দেশ্য ছিল পৃথক রাষ্ট্র হাসিল করা। মুসলিম সম্প্রদায়কে স্বাধীন সরকার ব্যবস্থা দেওয়া। পাকিস্তান আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এ দাবী নিয়েই পথে নেমেছিলেন। মুসলমানরা রাজনৈতিক নেতৃত্ব হাসিল করতে পারে এ লক্ষ্যেই তারা পাকিস্তান আন্দোলন শুরু করেছিলেন। অবচেতনে অবশ্য এ চিন্তাও ছিল যে, মুসলমানরা যখন স্বাধীন সরকারে যাবে তখন সে সরকারের আইন কানুন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাও ইসলামী ব্যবস্থা অনুসারেই করবে। একটি রাষ্ট্র পরিচালনার পথে কি ধরনের জটিলতা আসতে পারে সেসম্পর্কে তাদের কোনো ধারনাই ছিল না। এসব বিষয়ে তারা চেতনে অবচেতনে কিছুই ভাবতে পারেননি। কেবল এক অস্পষ্ট শ্লোগান ছিল। ইসলামি হুকুমত কায়েম করো। জবান থেকে তারা কেবল একটি শ্লোগান বের করেছে। ইসলামি রাষ্ট্রের অর্থ কী এবং এর কী দাবি তা মুসলমানদের সাধারণের ভাবনায় যেমন ছিল না; নেতৃবৃন্দের চিন্তায়ও ছিল না। আত্মভোলা জাতির মত মুসলমানদের নেতারাও আত্মভোলা হয়ে ছিল। মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ সকলের মাঝেই দুর্ভাগ্য ছিল সমান। এই লাইনগুলি শেষ হতেই আমার স্মৃতিতে উর্দু কবি আকবর মরহুমের দুটি পংক্তি হাজির হলো-
মুখে বলে দিলাম আমি, হু; কিন্তু আমি নিজেই বুঝিনি কী
এমন আত্মভোলা হবার ফল কি হয় দেখা উচিত

বর্তমান সময়ের বিশ্বসভ্যতার পরিবেশ শুধু ইসলাম নয় ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এতটাই অন্য রকম যে, এখন মুমিন আর কাফিরের প্রশ্ন বাকি থাকেনি। জাতিগত পার্থক্যের অন্য অনেক বিষয় এখন বাস্তব দুনিয়ায় কার্যকর হচ্ছে। বর্ণ, ভাষা, ভূখণ্ড, অর্থনীতি, গোষ্ঠি ইত্যাদি নানান ভিত্তিতে জাতীয়তা নির্ধারিত হয়ে গেছে। এখন পৃথিবীকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্তিতে আনা পাহাড় কেটে দুধের নহর সৃষ্টির চেয়ে কম কঠিন নয়। এর জন্য প্রয়োজন অলৌকিক কোনো শক্তির। আমাদের ভালো থেকে ভালো লিডারের পক্ষে এমন পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

সিদকে জাদীদ মার্চ সংখ্যা ১৯৬৯ ইং
মাওলানা মাদানী কি সিয়াসি ডায়েরী থেকে গৃহীত
ভাষান্তর : মুফতী ফয়জুল্লাহ আমান

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com