২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা রজব, ১৪৪৪ হিজরি

পাকিস্তানে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করার দৃঢ় প্রত্যয় পাক অর্থমন্ত্রীর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, পাকিস্তানের ব্যাংকিং ব্যবস্থা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় পরিণত হবে। এ লক্ষ্যে তিনি ব্যাংকিং খাতকে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন। খবর দ্য ডন।

গতকাল বুধবার করাচিতে ফেডারেশন অব পাকিস্তান চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে এক সেমিনারে বক্তারা সুদ-মুক্ত ব্যাংকিং সম্পর্কে বিস্তারিত বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মত ব্যক্ত করেন।

গত এপ্রিল মাসে, পাকিস্তানের ফেডারেল শরিয়া আদালত (এফএসসি) প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে শরিয়াবিরোধী বলে ঘোষণা করেছিলেন। একই সাথে সরকারকে সুদমুক্ত ব্যবস্থার অধীনে সমস্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ারও নির্দেশ দেন। সে সময় আদালত রায়ে বলেছিলেন, ফেডারেল সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারগুলোকে অবশ্যই প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন করতে হবে এবং নির্দেশ জারি করতে হবে, দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সুদমুক্ত হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পরবর্তী সময়ে এফএসসির রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে (এসসি) আপিল করেছিল। তবে এই মাসের শুরুতে ইসহাক দার এক ঘোষণায় বলেছিলেন, শরিয়া আদালতের নির্দেশের বিরুদ্ধে করা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর আপিল প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি পাকিস্তানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি ইসলামিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে সরকার।

সরকার বিদ্যমান ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সুদমুক্ত ব্যবস্থায় রূপান্তর করার জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ রয়েছে আমাদের সরকারের। তবে বলবো না, আমরা এটি অর্জন করে ফেলেছি। এ সময় তিনি জানান, ২০১৩-১৭ সালে মীজান ব্যাংকের মাত্র ১০০টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা ছিল, যা বর্তমানে এক হাজার ছাড়িয়েছে।

ইসহাক দার আরও জানান, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ ৭ ট্রিলিয়ন রুপি, যখন তাদের আমানতের পরিমাণ ৫ ট্রিলিয়ন রুপি। সুতরাং বলা যায়, মোটামুটি একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে এবং ব্যবস্থাটিকে আমাদের সফল করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি মিউচুয়াল ফান্ড, মূলধন তহবিল ও বীমা ব্যবসাকেও ইসলামিক শরিয়ার আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে এই বিষয়ে ইতিবাচক পদ্ধতিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

পুরো পদ্ধতি পাঁচ বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা যাবে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এফএসসির রায় দেওয়ার আগেই সরকারের এই পথে হাঁটা উচিত ছিল।

ইসহাক দার বলেন, ইসলামিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে যে সব সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে সে সম্পর্কে তিনি অবহিত আছেন এবং যে শাখাগুলো এটি করতে অস্বীকার করছে, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করতে তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com