পাগড়ি : অভিযোগ ও বাস্তবতা

পাগড়ি : অভিযোগ ও বাস্তবতা

হোসাইন আহমদ বাহুবলী ● বড় বড় বুযুর্গগণ তো পাগড়ি পরিধান করতেন না! অথচ তাঁরা শতভাগ সুন্নতের পাবন্দ ছিলেন, এমনকি এক বুযুর্গের বেহুঁশ অবস্থায় কেউ তাঁর জুতা পরানোর সময় আগে বাম পায়ে পরাতে লাগলে ঐ বুযুর্গ বেহুঁশ অবস্থায় ধমক দিয়ে ডান পা বাড়িয়ে দেন। এই বুযুর্গও পাগড়ি পরতেন না”

কথাটা এমন কজন আলেমের যারা প্রসিদ্ধ শায়খদের সাথে ইসলাহী সম্পর্ক রাখেন কিন্তু পাগড়ি পরিধান করেন না। কোন প্রকার প্রশ্ন করা ছাড়াই সম্ভবতঃ আমার পাগড়ি পরিধান দেখে স্বপ্রণোদিত হয়েই তারা নিজ অস্থিরতার কথা জানালেন এভাবে।

জনসাধারণের অজ্ঞতা প্রসূত প্রশ্নে বিব্রতবোধ করি না কখনো। কিন্তু আলেমের এমন প্রশ্নে বিব্রতবোধ না করলেও ভাবনাবোধ না করে কি পারা যায় বলেন?

বিশেষ করে সেই আলেম যখন হন নিসবতদার, ইযাযতপ্রাপ্ত এবং আমার খায়ের খা ও কল্যাণকামী

তিরমিযী শরীফের

باب ما جاء فى صفةعمامة النبى صلى الله عليه وسلم

সহ প্রায় সব হাদীসের কিতাবে পাগড়ি পরিধান অধ্যায় থাকতে এমন প্রশ্ন কেন তাদের মস্তিষ্কে উঁকি দিল? আমি জানি না।

تفردات الشيخ غير مقبولة

“বুযুর্গদের একক আমল অনুস্বরণীয় নয়”

ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হওয়া সত্ত্বেও কেন তাদের অস্বস্তি?

نست حجت قول و فعل ھیچ پیر

قول احمد فعل او را خود بگیر

“বুযুর্গদের কথা-কাজে আইন নাহি হয়,

মহানবীর বানীর সাথে বিরোধ যদি রয়”

প্রসিদ্ধ বচন তাহলে কি আজ অকার্যকর?


এতটুকু পর্যন্ত নিদেনপক্ষে আমার অস্বস্তি ছিল না কিন্তু যখন বুখারী শরীফের দরস প্রদানকারী এজাযতপ্রাপ্ত এক শায়খ বললেন, পাগড়ি পরিধান করলে আমার মাঝে অহংকারবোধ চলে আসে তাই পাগড়ি পরি না।

তখন কী আর স্বস্তিটা থাকে


এতটুকু পর্যন্ত নিদেনপক্ষে আমার অস্বস্তি ছিল না কিন্তু যখন বুখারী শরীফের দরস প্রদানকারী এজাযতপ্রাপ্ত এক শায়খ বললেন, পাগড়ি পরিধান করলে আমার মাঝে অহংকারবোধ চলে আসে তাই পাগড়ি পরি না।

তখন কী আর স্বস্তিটা থাকে?

এটা এমন এক শাখাগত মাসআলা যা ফতোয়ার কিতাবে হুবহু নযীর পাওয়া দুষ্কর।

রাসাইল অধ্যায়ন শুরু করলাম, হযরত ইমাম শাফেঈ রহঃ এর সিদ্ধান্ত পেয়ে গেলাম।

তিনি বলেন,

لو خاف من إرسالها نحو خيلاء لم يؤمر بتركها بل يفعله و يجاهد نفسه

পাগড়ি অথবা পাগড়ির পেছনে ঝুলানো শিমলার করণে অহংকারবোধের ভয় হলে পাগড়ি পরিধান ছেড়ে দেওয়া যাবে না বরং অহংকারবোধ দূরীভূত করণের জন্য আধ্যাত্মিক লাইনের নির্দিষ্ট মেহনত চালিয়ে অন্তর পরিশুদ্ধ করতে হবে।

এমনকি

এ কাজে অহংকারবোধ ও লজ্জাবোধকরণকে শয়তানের কুমন্ত্রণা বলা হয়েছে “আমামাহ কি শরঈ হাইসিয়্যত” নামক কিতাবে।

বিস্তারিত জানতে দেখুন

شرح الشمائل للمناوى على جمع الوسائل صفحة ٢٠٨

المواهب اللدنية باب ما جاء فى صفةعمامة النبى صلى الله عليه وسلم حديث نمبر ١

পাগড়ি পরিধান বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখুন, পরের লেখায় এ বিষয়ে আবার কথা বলবো ইনশাআল্লাহ।
লেখক : আলেম ও গবেষক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *