পাথেয় রিপোর্ট: পাবনায় কলেজে প্রভাষককে মারধরের ঘটনায় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে পাবনা শহরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করলে পুলিশ ছাত্রলীগের এই নেতাকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় আদালতে হাজির করে, পরে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে।
এর আগে, গত ১৫ মে রাতে এ ঘটনায় কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে ছাত্রলীগ সদস্য মোহাম্মদ সজল ও সাফিন আহমেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে, প্রাথমিকভাবে জুন্নুনের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, গত ১২ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় জুন্নুন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু বলেন, ছাত্রলীগ নেতা জুন্নুন প্রভাষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিতের মামলার আসামি না হলেও শিক্ষক সমাজ জুন্নুনকে নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করেছে।
উল্লেখ্য, পাবনার সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের প্রভাষক মাসুদুর রহমান গত ৬ মে এইচএসসি পরীক্ষায় পরিদর্শকের দায়িত্বে ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালে দুই ছাত্রী একে অপরের খাতা দেখার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। বিষয়টি নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই ছাত্রীর খাতা নিয়ে নেন তিনি। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন দুই ছাত্রী।
এর জের ধরে ১২ মে কলেজ ফটকে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই দিন মাসুদুর রহমান মোটরবাইকে করে কলেজ থেকে বের হওয়ার পথে কলেজের প্রধান ফটকে তাকে থামানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যে কয়েকজন যুবক তার ওপর হামলে পড়ে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় দিতে থাকেন। এরপর একজন পেছন থেকে এসে তাকে লাথি মারেন। আর এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহল থেকে দোষীদের শাস্তির দাবি জোরালো হয়।


