নিজস্ব প্রতিবেদক : বাজারে থাকা সকল ব্রান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিকে আরো এক মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের হাইকোর্টে বেঞ্চে ছয় মাসের সময় চাইলে আদালত দুধের মান পরীক্ষার জন্য আরো এক মাস সময় দেন।গত ২১ জুন আদালত বাজারের সকল ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে সম্প্রতি।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠিত ১০ সদস্যের কমিটিতে সদস্যরা হলেনÑ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, ডেইরি মাইক্রোবায়োলজিস্ট, মাইক্রোবায়োলজি ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রতিনিধি, ফুড মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবের সহযোগী গবেষক ও প্রধান ড. মো. আমিনুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, বিএসটিআই’র বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, ন্যাশনাল কনসালটেন্টের ডা. কুলসুম বেগম চৌধুরী, বিএসটিআই’র বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের উপসচিব আবু সহিদ ছালেহ মো. জুবেরী।
আদালতে রিটকারী আইনজীবী মো. তনভীর আহমেদের সঙ্গে ছিলেন আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে কমিটি সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।
পরে রিটকারী আইনজীবী তানভীর আহমেদ বলেন, গত ২১ মে আদালত বাজারের পাস্তুরিত দুধ পরীক্ষার জন্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত এক মাসে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। সেটিই তারা আদালতকে অবহিত করে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ছয়মাস সময় চায়। এসময় দীর্ঘ সময় আবেদনে আপত্তি জানালে আদালত মঙ্গলবার থেকে ৩০ দিন সময় দিয়েছেন। বাজারের সকল পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে এই সময়ের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে হবে।
গত ১৭ মে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত পাস্তরিত দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়, আইসিডিডিআরবির প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এই রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানভীর আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। আদালতে তিনি নিজেই শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আবু সাঈদ, মো. সেলিম আসিফ পারভেজ ও মো. হানিফ।
পত্রিকায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাজারে পাওয়া যায় এমন পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশ অনিরাপদ। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কোম্পানির দুধের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া পেয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, মানুষ যেন দুধ কেনার পর ফুটিয়ে পান করেন।
আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানীরা দেশের ৪৩৮টি কাঁচা দুধের নমুনা এবং বাণিজ্যিকভাবে প্রক্রিয়াজাত দুধের ৯৫টি নমুনা সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করেন। এই গবেষণা ফলাফল গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড মাইক্রোবায়োলজিতে ছাপা হয়েছে। শিশুদের পুষ্টির প্রাথমিক উৎস এই দুধ নিয়ে গবেষণা ফলাফলকে আইসিডিডিআরবি ‘অপ্রীতিকর’ বলে বর্ণনা করেছে।


