পুলিশের বাসায় প্রতিবন্ধী হত্যা; উত্তাল রংপুর

পুলিশের বাসায় প্রতিবন্ধী হত্যা; উত্তাল রংপুর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুলকে পুলিশের বাসায় নির্যাতন করে হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দিনভর প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল ছিল রংপুর।

এলাকাবাসীর ডাকে নগরীর পার্কের মোড়ে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে জনতার ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। দুই ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের সময় রংপুর-কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত নাজমুলের স্ত্রী ও সন্তান ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। অপরদিকে নিহত প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলীর দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুলিশ কনস্টেবল হাসান আলী ও তার স্ত্রী সাথীকে আদালতে পাঠানো হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিক্যালে ময়নাতদন্ত শেষে নাজমুলের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের মুস্তফিতে তাকে দাফন করার কথা।

প্রতিবন্ধী যুবক হত্যাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বৃহস্পতিবার সকালে পার্কের মোড় এলাকায় মানববন্ধনের আয়োজন করে। আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন রিকশাচালক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। বারবার আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয় পুলিশ। ঘটে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা।

এ সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের দুজনকে ধরে নিয়ে গেলেও একজনকে ছেড়ে দেয়। আটক ওই ব্যক্তি রিকশাচালক বলে জানা গেছে। মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এডিসি) আলতাফ হোসেন জানান, বহিরাগত লোকজন আন্দোলন উস্কে দেওয়ায় তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।

এর আগে সকালে মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে আগের দিনের নির্মম ঘটনার বর্ণনা দেন নিহত প্রতিবন্ধী রিকশাচালক নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী ও তার ১০ বছরের সন্তান শামীম। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়ে তারা বলেন, হাসান তার বাড়িতে তুলে নিয়ে দরজা বন্ধ করে নাজমুলকে নির্যাতন করেছে। এ সময় তার চিৎকার শুনেছে এলাকার অনেক মানুষ।

শ্যামলী বলেন, অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে পায়ে ধরে মিনতি করলেও দয়া করেনি হাসান ও তার স্ত্রী। মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে পঙ্গু লোকটাকে তারা মেরে ফেলেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

এডিসি আলতাফ হোসেন বলেন, বুধবার পুলিশ গিয়ে এলাকাবাসীর সামনে হাসানের বাড়ির একটি ঘরের দরজা ভেঙে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। তবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হতে অধিকতর তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সেটা বুঝা যাবে।

নিহত নাজমুল পুলিশ কনস্টেবল হাসানের একটি রিকশা ভাড়া নিয়ে চালাতেন। মঙ্গলবার রিকশাটি হারিয়ে গেলে নাজমুলকে ধরে নিয়ে হত্যা করে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে হাসান ও তার স্ত্রী সাথীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বুধবার হাসানের বাড়িতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাড়ি থেকে নাজমুলের লাশ উদ্ধার এবং হাসান ও তার স্ত্রী সাথীকে আটক করে নিয়ে যায়। ওই রাতেই নিহত নাজমুলের স্ত্রী শ্যামলী বাদী হয়ে তাজহাট থানায় মামলা করেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *