পেঁয়াজের ঝাঁজ আবারও বাড়ছে

পেঁয়াজের ঝাঁজ আবারও বাড়ছে

পেঁয়াজের ঝাঁজ আবারও বাড়ছে

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম :: আবারও পেঁয়াজের ঝাঁজ চরমে। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যই দাম বেড়ে চলেছে পেঁয়াজের। এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অপেক্ষায় আবার বাংলাদেশের মানুষ। ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ কাছাকাছি চলে আসায় রাজধানীর বাজারগুলোতে পেঁয়াজের এ চড়া মূল্য। সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি ও আমদানি উভয় ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা কমায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজের প্রভাবে সম্প্রতি দাম বেশ কমে যায়। তবে কোরবানির ঈদ কাছাকাছি চলে আসায় এখন পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সামনে আরও বাড়বে।

তারা বলছেন, মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে কয়েক মাস ধরেই বেশিরভাগ ক্রেতা একবারে পেঁয়াজ কিনছেন। আগে যারা এক কেজি, আধা কেজি পেঁয়াজ কিনতেন এখন তাদের অনেকে পাঁচ কেজি বা তার বেশি পেঁয়াজ কিনছেন। ফলে পেঁয়াজ কেনার চাপ এক সঙ্গে পড়ছে। তখন দাম বেড়ে যাচ্ছে। আবার যখন কেনা শেষ হয়ে যাচ্ছে তখন বিক্রি বেশ কমে যাচ্ছে। ফলে দামও কমছে। এ কারণেই করোনার মধ্যে পেঁয়াজের দাম বেশ ওঠা-নামা করছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর যে কয়টি পণ্যের দামে ব্যাপক উত্থান-পতন হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পণ্য পেঁয়াজ। গত চার মাসে অন্তত ১২ বার পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করছে। অবশ্য করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার আগেও পেঁয়াজের দামে বেশ অস্থিরতা দেখা যায়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারত রফতানি বন্ধ করলে দেশের বাজারে হু হু করে দাম বেড়ে পেঁয়াজের কেজি রেকর্ড ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। এরপর সরকারের নানামুখী তৎপরতায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে। আর চলতি বছরের মার্চের শুরুতে রফতানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ভারত। ভারত রফতানি বন্ধের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর দেশের বাজারে দফায় দফায় কমতে থাকে পেঁয়াজের কেজি। কয়েক দফা দাম কমে পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকায় নেমে আসে।

এর মধ্যেই দেশে শুরু হয়ে যায় মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। করোনার আতঙ্কে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানীর বাসিন্দাদের মধ্যে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বাড়তি কিনে রাখার এক ধরনের হিড়িক পড়ে যায়। এতেই ৪০ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে ৮০ টাকায় উঠে যায়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে ভোক্তা অধিদফতর ও।র্যাব। পেঁয়াজের বাজারে চলে একের পর এক অভিযান। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও অভিযান চালিয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়। এতে আবারও দফায় দফায় দাম কমে পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকায় নেমে আসে।

তবে রোজার আগে আবারও অস্থির হয়ে ওঠে পেঁয়াজের বাজার। কয়েক দফা দাম বেড়ে রোজার শুরুতে পেঁয়াজের কেজি ৫৫ টাকায় পৌঁছে যায়। এরপর রোজার মাঝামাঝি সময়ে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমে ৪৫ টাকায় নেমে আসে। এ পরিস্থিতে ঈদের আগে আবার দাম বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হয় পেঁয়াজের কেজি। তবে ঈদের পর চাহিদা কমলে পেঁয়াজের কেজি আবার ৪০ টাকায় নেমে আসে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *