২৯শে মে, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ , ৮ই জিলকদ, ১৪৪৪ হিজরি

প্যাকেজ মূল্য বাড়ায় অনেকের হজ অনিশ্চিত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : চলতি বছর সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে পূর্ণাঙ্গ হজের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সৌদি আরব সরকার। তাদের অভ্যন্তরীণ হজযাত্রীদের জন্য ৩০ শতাংশ খরচ কমিয়ে দিয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিরা চাইলে তিন কিস্তিতে শোধ করতে পারবেন হজ প্যাকেজের অর্থ। আর বিদেশ থেকে যারা হজে যাবেন তাদের জন্যও বিশেষ সুবিধার আওতায় মক্কা-মদিনার বাড়ি ভাড়া, বাস ভাড়া, বীমা ফি ও অন্যান্য পরিষেবা বৃদ্ধি না করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে।

অথচ এর ব্যত্যয় ঘটছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশিদের হজ পালনের খরচ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ২৯ শতাংশ বা দেড় লাখ টাকার বেশি। তিন বছর আগের খরচের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এতে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে হজযাত্রীরা বড় চাপের মুখে পড়েছেন। গত বছরের হিসাব করে যারা অল্প অল্প করে হজের জন্য টাকা জমিয়েছিলেন, তারা পড়েছেন মহাবিপাকে। হজের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকের হজে যাওয়াই অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

মূলত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অতি মুনাফার টার্গেটের কারণে হজযাত্রীদের খরচ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশ হজ মৌসুমে উড়োজাহাজ ভাড়া বাড়ায় না। উলটো ছাড় দেয়। ব্যতিক্রম বাংলাদেশ বিমান। তারা হজ মৌসুম এলেই বিমান ভাড়া বাড়িয়ে ব্যবসা করে। এ বছর বাড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। প্রতি বছরই তারা হজ ফ্লাইটের ভাড়া বৃদ্ধি করে। কারণ অন্য সব ক্ষেত্রে নিজেদের লোকসান পুষিয়ে নিতে ‘হজ বাণিজ্যে’ নামে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

সংশ্লিষ্টরা এ নিয়ে বরাবর প্রতিবাদ করে আসলেও কোনো প্রতিকার হয় না। হজ এজেন্সি মালিকরা বলছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সারা বছরের লোকসানের ধকল কাটায় হজযাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ভাড়ার বোঝা চাপিয়ে। হজ ফ্লাইট থেকে বিমান ৮০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফা করে। সংস্থাটির আয়ের ১৫ শতাংশই এই হজ ফ্লাইট থেকে আসে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, বিমানের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এই খরচ বেড়েছে। বর্তমানে ওমরাহ পালনে গেলে বিমানভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৯৮ হাজার টাকা করে। আর হজের সময় নেওয়া হবে ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ বিমান ১ লাখ টাকা বেশি নিচ্ছে। এটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওপর জুলুম। আমরা মনে করি, যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ হওয়া উচিত। এজন্য এভিয়েশন খাতের বিষয়ে যারা বোঝেন, তাদের সমন্বয়ে একটি স্বতন্ত্র টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করতে পারে সরকার।

হজ মৌসুমে বিমান ভাড়া কেন বাড়ে—এই প্রশ্নের জবাবে বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘ডেডিকেটেড’ হজ ফ্লাইট হওয়ায় বিমানকে যাত্রী নামিয়ে খালি আসতে হয়। তাই ভাড়া বেশি রাখতে হয়। তবে হজ এজেন্সিগুলো বিমানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে। এজেন্সি মালিকরা বলছেন, সরকার হজ প্যাকেজে বিমান ভাড়া নির্ধারণ করে ডেডিকেটেড ফ্লাইটের অজুহাতে। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলো একই ভাড়ায় রেগুলার ফ্লাইটেও হজযাত্রী নেয়। বিমানের একচেটিয়া ভাড়া নির্ধারণের প্রবণতা রোধে হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া নির্ধারণের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তারা।

এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের জন্য প্যাকেজ মূল্য নির্ধারণ করে হাব। সংগঠনটির তথ্য অনুসারে, গত বছর কোরবানি ছাড়া বেসরকারি ‘সাধারণ’ হজ প্যাকেজের সর্বনিম্ন ব্যয় ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা। চলতি বছর সেই ব্যয় ধরা হয়েছে কোরবানি ছাড়া ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খরচ বেড়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬১৮ টাকা। তার সঙ্গে কোরবানির টাকা মিলিয়ে বাড়তি অঙ্কটা ২ লাখ ছুঁয়ে ফেলবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সরকারিভাবে গত বছর হজযাত্রার দুটি প্যাকেজ ছিল। এর একটিতে ব্যয় ছিল (কোরবানি ছাড়া) ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ টাকা ও অপরটির ব্যয় ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৪৯ টাকা। চলতি বছর হজের জন্য সরকারিভাবে একটি প্যাকেজই রাখা হয়েছে এবং এর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৫ টাকা।

  • নিবন্ধন শেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি

চলতি বছরে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে চাওয়া ব্যক্তিদের নিবন্ধন ৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। নিবন্ধন করতে হজযাত্রীদের অবশ্যই পাসপোর্ট থাকতে হবে। কমপক্ষে হজের দিন থেকে পরবর্তী ছয় মাস পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন করে কেউ যদি হজে যেতে না পারেন, তাহলে তাকে শুধু বিমান ভাড়া ও খাবার খরচ হিসেবে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে বিমানের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর হজযাত্রা বাতিল করলে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে না।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২৩ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com