ডাক দিয়ে যাই । লাবীব আব্দুল্লাহ
প্রজন্মের নৈতিকতা নিয়ে ভাবুন
২০২০ সালের সূর্যাস্ত৷ চাঁদের উদয়ে আমি৷ কোয়াশার কারণ পহেলা জানুয়ারির সূর্য দেখতে পারিনি৷ ঈসাব্দের শেষ দিনের সন্ধ্যায় ছিলাম নদীর কাছে৷ বহতা নদীতে পানি নিথর৷ নদীর তীরে তীরে হেঁটে হেঁটে ভেবেছি বিগত এক বছরের সফলতা ব্যর্থতা। সন্ধ্যার আঁধারে এক মাঝি ডিঙ্গি নৌকায় নদীর ওপার থেকে এপারে পাড় করার কাজে ব্যস্ত৷ জীবন ও নদী কাছাকাছি৷ পাড় করে পয়সা নিতে চাইলো না মাঝি৷ ষোল আনা লাগেনি! তবুও মাঝির ভালোবাসায় দিলাম পঁচিশ টাকা৷ মাঝির নাম মজীব৷ আমার সফর সঙ্গীও ছিলো মুজীব৷ এই নৌকা অনেকের স্বপ্ন নির্মাণ ও অনেকের স্বপ্নভঙ্গের কারণ৷
নদীর ওপারে সজীবতা৷ সবজি নানা রকেমর৷ সন্ধ্যায় আমার সফরে খাবারের কমলা ও আপেল ছিলো৷ এক পিতৃস্নেহবঞ্চিতের সাথে ভাগ করে গেলাম৷ তারা চার ভাই দুই বোন৷ মা ছোট মেয়ে নিয়ে থাকেন আর সবাই কাজ করে বাইরে, শহরে৷ কেউ পড়ে৷ ছোট ছেলেটি থাকে এতিমখানায়৷ আমার জীবনের সাথে মিল পেলাম তবে আমি এতিমখানায় থাকিনি৷
শহরে বখে যাওয়া যুবকদল বছরের তথাকথিত থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেখলাম নদী পাড়ি দিয়ে৷ করোনাকালে গত দশ মাস স্কুল কলেজ বন্ধ৷ কিছু যুবক খেলবে রাতে৷ খেলার আগে বলছে “খাবি? খাইলে শক্তি কমে যাবে জমবে না খেলা” এই খেলা সাধারণ খেলা নয়৷ এই খাবার সাধারণ খাবার নয়৷ চরে মাইশ কালাই বা ডালের ক্ষেত দেখে ফিরছি৷ পোলাপান ডাল খেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ এই ডাল সেই ডাল নয়৷ খেলে রাম খেলে যায় এর বাবরীয় খেলা! পরিবার ও স্কুল কলেজে নৈতিকতা না থাকলে প্রকাশ্যেই খেলেবে৷ এক ষোড়শীকে সন্ধ্যার অন্ধকারে প্যান্ট শার্ট পরিহিত দেখে আমি ভাবলাম পোলা একটা! কিন্তু আওলাকেশে পুরি৷ কন্যা! সাথে কথিত বন্ধুও আছে! নদীর ওপারেও কিছু দৃশ্য দেখে মনটা খারাপ হলো৷ বর কনে ও বাসর ঘরের পোশাকে বাঙালি ললনা যাচ্ছে হারামি বয়ফ্রেন্ডের সাথে৷
কোথায় পারিবারিক বন্ধন! কোথায় অভিভাবক৷ গানে গানে নাচছে কিছু পোলাপান৷ কোথায় রাজনীতিবিদরা! কোথায় প্রশাসন! আইন শৃংখলা কোথায়? বছরের শুরুতে ৩৪ কোটি টেক্সট বই বিতরণ হবে এইসব বইয়ে কি মুসলিম যুবক যুবতীর কালচার, আদব আখলাকের শিক্ষার কথাও রয়েছে? থাকলে স্কুলে নৈতিক পরিবেশ কি সম্ভব হচ্ছে রক্ষা করা৷ সহশিক্ষার কুফল সমাজে দৃশ্যমান৷ রাত বারোটা এক মিনিটে শব্দবোমা ও পটকাবাজি ও ফটকাবাজির আওয়াজে মনে হলো মৌলভী মাওলানাদের শীতকালের সব ওয়াজ এক মিনিটেই ব্যর্থ৷ ব্যর্থ আমাদের মিম্বর মেহরাবের মেহনত৷ বিশেষ করে যুবক যুবতীদের ক্ষেত্রে৷ করোনাকালে এইসব নষ্টামি!
যুবসমাজকে রক্ষা না করতে পারলে এইসব পাগলরা ভুলে যাবে হিজরি সন৷ ভুলে যাবে বঙ্গাব্দও৷ পান্তাভাত ভুলে খাবে হুইসকি! পরিবার সমাজ ও সরকারকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়ে এই প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে৷ রক্ষা করতে হবে নৈতিকতা৷ হেফাজত করতে হবে ঈমানের সজিবতাও৷
নতুন বছরের ডায়েরির পাতায় লিখিত হোক নতুন দিনের গল্প৷ নতুন স্বপ্ন৷ নতুন ভিশন ও মিশন৷ দাওয়াহচেতনায় কাটুক আমাদের দিনগুলো৷ সমৃদ্ধ করুন রব্বে কারীম আমাদের ঈমান আমল৷ আমাদের মালে দিন বরকত৷ সময়ের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ৷ এই সময় হোক বরকতময়৷ মসিবতমুক্ত৷ মহামারিমুক্ত৷ আমাদের ঈমান ও আজাদি রক্ষায় আমরা সতর্ক থাকি৷
সাংস্কৃতিক গোলামি থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশে উদ্যোগী হই৷ কুরআনি চেতনা ছাড়া এই প্রজন্মের অবক্ষয় রোধ সম্ভব নয়৷ ছড়িয়ে দিই কুরআনি চেতনা৷ আমাদের দিল, দেমাগ, মন মানসিকতা আলোকিত হোক কুরআনের আলোয়৷ সুন্নাহর নূরে৷
লেখক : কলামিস্ট ও মাদরাসা শিক্ষক
ডেরা, ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে
০১.০১.২০২১



