১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

প্রধানমন্ত্রীঃ ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা ভুলে যায় কীভাবে?

ফাইল ছবি: ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোটপ্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : নির্বাচন ও ক্ষমতাগ্রহণ নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচকদের পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কথা মানুষ ভুলে যায় কীভাবে? আজকে আমাদের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলে যারা, ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন যারা করে, তাদের আমি জিজ্ঞাসা করি ১৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কেমন নির্বাচন করেছিল? কয় শতাংশ ভোট পড়েছিল? ৪ পারসেন্ট ভোটও পড়েনি।

সমস্ত জায়গায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করে দিয়ে, ভোটের বাক্স সিল দিয়ে ভরে খালেদা জিয়া নাকি তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভোট চুরি করেছিল বলে কী হয়েছিল তার পরিণতি? গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, আন্দোলন হয়েছিল, সংগ্রাম হয়েছিল, সেই সংগ্রামের মধ্যে আন্দোলনের মধ্যে খালেদা জিয়া বাধ্য হয়েছিল পদত্যাগ করতে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়, আর ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় গণআন্দোলনে।

আজকে যারা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করে তাদের আমি স্মরণ করাতে চাই। সেই ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন এবং খালেদা জিয়ার পদত্যাগের কথা। তাদের তৃতীয়বারের প্রধানমন্ত্রী তো দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারে নাই। কারণ, ভোট চুরির অপরাধে নাকে খত দিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, পদত্যাগ করতে যাবে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমাদের পারমিশন নিয়ে যেতে হয়েছিল, জনগণের পারমিশন নিয়ে তাকে যেতে হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছিল। ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। এটা বাস্তবতা।

বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে অতীতে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তারা তাদের শাস্তি পেয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ক্ষমতা থেকে হটিয়েছে।

টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার সরকারে এসেছে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে, জণগণের ভোটে যদি নির্বাচিত না হতাম তাহলে তিন তিন বার আমরা সরকারে আসতে পারতাম না। আর আজকে ১৩ বছর পূর্ণ করতে পারতাম না। এটা হলো বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে।

৯১ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো দলই তখন (সরকার গঠনের মতো একক) সংখ্যাঘরিষ্ঠতা পায়নি। আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিল তখনকার রাষ্ট্রপতি যে, জামায়াত আর জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে পারি। আমি বললাম যে, এই দুর্বল অবস্থায় তো আমি ক্ষমতায় যেতে চাই না। কারণ আমার ক্ষমতার প্রয়োজন হচ্ছে দেশের উন্নয়ন করা। যাই হোক বিএনপি জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ মর্যাদা পায় মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে দেশের উন্নয়নের চাকাটা গতিশীল থাকবে। যারা এদেশকে খুনির রাজত্ব করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের রাজত্ব করেছিল, দুর্নীতির রাজত্ব করেছিল তাদের স্থান বাংলার মাটিতে হবে না। এই কথাটা স্পষ্ট জানাতে হবে এদেরকে। পাশাপাশি জণগণের অধিকার নিয়ে আমরা কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে এসময় দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক দীপু মনি, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com