পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : মসজিদ মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান। আলাদা অনুভূতির জায়গা। আল্লাহর সান্নিধ্যে আর ইবাদতে দিনের কিছু সময় অতিবাহিত করার উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করা হলেও মসজিদের নান্দনিক দিকেও যুগে যুগে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। মসজিদকে আল্লাহতায়ালার ঘর বলা হয়। ইসলামে মসজিদ নির্মাণের জন্য বিশেষ ফজিলতের কথা বলা হয়েছে। এ কারণে মুসলমানরা মসজিদ নির্মাণে ব্রতী হন এবং মসজিদ নির্মাণ করে বিশেষ তৃপ্তিবোধ করেন।
এই তৃপ্তি অর্জনের নিমিত্তে মুসলমানরা তাদের সবচেয়ে প্রিয় স্থান মসজিদকে যুগে যুগে অনন্য সুন্দর স্থাপনা হিসেবে নির্মাণের পেছনে অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন এবং করছেন। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের শাসকেরা তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তির সাথে সাথে সুনিপুণ মসজিদ নির্মাণেও বেশ উৎসাহী ছিলেন। আর তার বদৌলতেই আমরা পেয়েছি একের পর এক কিছু দৃষ্টিনন্দন মসজিদ। বিশ্বব্যাপী তৈরি হওয়া মসজিদগুলোর দিকে তাকালে যার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশ্বের সেরা স্থাপনাগুলোর অন্যতম মসজিদে হারাম শ্রেষ্ঠ স্থাপনা হওয়া যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এতদিন স্থাপত্য শিল্পীদের বিশেষ দৃষ্টি ছিল মসজিদের বাইরের অংশের সৌন্দর্য বর্ধন নিয়ে। কিন্তু এবার মসজিদের বাইরের সৌন্দের্যের পাশাপাশি মসজিদের ভেতরও সুন্দরভাবে ভিন্নধারায় সাজানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের কেরিশি (Kırşehir) শহরে একটি মসজিদের ভেতরের অংশ সাজানো হয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক আবহে।
নতুন ডিজাইনের মসজিদ নির্মাণে স্থানীয়রা মসজিদের ভেতরের ছাদকে আকাশের অবয়বে চিত্রিত করেছেন। আর মসজিদের মেজেতে স্থাপন করেছেন দেখতে সবুজ ঘাসের মতো কার্পেটে। মসজিদের ভেতরে রয়েছে সুবিশাল ঝুলন্ত ঝাড় বাতি। এটা মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদের মিম্বরটি তৈরি হয়েছে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে। মিম্বরের ধাপগুলোর আচ্ছাদনে ব্যবহৃত হয়েছে সবুজ ঘাসের ডিজাইনকৃত কার্পেট। মিম্বরে প্রবেশের জন্য রয়েছে, কালেমা লিখিত একটি কাটের গেটও। মসজিদের এমন ডিজাইনের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন কোরআনের আয়াত থেকে। এ মসজিদটি ১৯১০ সালে তুরস্কের কেরিশির শহরের ইয়েনসি এলাকায় অটোম্যান খেলাফতের অধীনে নির্মিত হয়েছিল। মসজিদটি প্রথমে অটোম্যান খেলাফতের আমির সুলতান আবদুল হামিদের নামে নামকরণ করা হয়।
মসজিদটি প্রথম নির্মাণ করা হয় ১৯০৫ সালের ২১ জুলাই। মসজিদটি দীর্ঘদিন অবহেলা ও অযত্নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে মসজিদটি সংস্কার করে নামকরণ করা হয়- ‘হামিদি ক্যামি মসজিদ’ নামে। বর্তমান ডিজাইনে মসজিদের ভেতরে নকশাগুলো আজারবাইজানের এক স্থপতি অংকন করেছেন। সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ শেষে মসজিদটি ২০১৬ নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এ মসজিদে স্থানীয় অধিবাসীরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ মসেজিদের সৌন্দর্য দেখতে এবং নামাজ আদায় করতে আসেন। একজন দর্শনার্থী মসজিদ পরিদর্শন ও নামাজ আদায় শেষে বলেন, নামাজ আদায় করার সময় মনে হচ্ছিল, আমি জান্নাতের বাগানে নামাজ আদায় করছি।
মসজিদের ইমাম সেফ ইকিনচি বলেন, আমি যখন এ মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হলাম। তখন থেকেই আমি মসজিদটির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করি এবং বর্তমান প্রকল্পের যে কারুকার্য হয়েছে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু করি।
-ইলমফিড.কম অবলম্বনে



