প্লিজ, লেখকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন
আমিন আশরাফ ● লেখক ও লেখালেখি নিয়ে আয়োজন করে বারবার মুড়ি খাওয়ার অনুষ্ঠান করার কিছু নেই। লেখক তৈরি করা কোনো যন্ত্রের কাজ না, চাইলে বিদ্যুতের চকেটে প্লাগ ঢৃকিয়ে মেশিন চালিয়ে দেবে। মুহূর্তে পত্রিকা ছাপা হওয়ার মতো লেখক তৈরি হতে থাকবে। লেখালেখির পুঁথিগত বিদ্যাসম্পন্ন লোক এ সমাজে মাশাআল্লাহ অনেক আছে। তাদেরকে পুর্নগঠন করার কাজ করতে পারেন। তাদের লেখালেখির জায়গা তৈরি করতে পারেন। তাদের দিয়ে বড় কোনো প্রজেক্ট করে কাজ করতে পারেন। হুজুরদের ভেতর আজ অনেকেই শিল্পপতি ।
নিজেরা বড় ধরনের প্রকাশনী, মিডিয়া অথবা কোনো বই রচনা বা গবেষণায় মেধাবী লেখকদের কাজে লাগাতে পারেন। ভাল কোনো কাজ হলে সেগুলো মূল্যায়ন করা যেতে পারে। কেউ লেখালেখিতে অসামান্য অবদান রাখলে তাদের সম্মাননা দিতে পারেন। এইসব কিছু না করে সবাই লেখক তৈরি করতে লেগেছেন। কেউ কয়েকটা পেপার কার্টিংয়ের বই করে আত্মজীবনী লিখতে শুরু করে দিয়েছেন। কেউবা আবার মাহফিলে মাহফিলে জলের পানির মতো উপদেশ বিলি কর করছেন।
একেবারে তৈমুরীয় কাণ্ডকারখানা চলছে। দয়া করে যারা লেখালেখি করেন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। তারা লেখক হিসাবে কীভাবে আরো ভালোভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেন। জোর করে কাউকে লেখক বানানো যায় না। যে লেখক এমনিতে লেখক। ব্যাপারটা সম্পূর্ণ গড গিফটেডেট! যারা জোর করে লেখক হয়েছে তারাই আবার সমাজকে জোর করে লেখক বানানোর কসরত করে যাচ্ছেন।
আমাদের একজন অনুবাদক জোর গলায় বলছেন, লেখালেখিতে বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম পাকিস্তানিদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। অথচ তিনি নিজেই জানেন, বাংলাদেশের উলামাদের নিজস্ব গবেষণামূলক কাজ টু পার্সেন্টও না। যতটুকু হয়েছে সবকিছু পাকিস্তান থেকে ধার করে করা হয়েছে। এমনকি মাসআলা মাসায়েলের সামান্য বইও। মহান আল্লাহ সবার ভাল করুন।
লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক


