ফাইনালে কারা, ফ্রান্স নাকি বেলজিয়াম?

ফাইনালে কারা, ফ্রান্স নাকি বেলজিয়াম?

পাথেয় ডেস্ক : দেখতে দেখতে শিরোপা লড়াইয়ের কাছে চলে এসেছে বিশ্বকাপ। সেই লড়াইয়ে সবার আগে যেতে প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। ম্যাচটি শুরু হবে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায়। ম্যাচটি দেখাবে বিটিভি, মাছরাঙা ও নাগরিক টিভি।

ম্যাচটি যেখানে ফ্রান্সের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার লড়াই, সেখানে বেলজিয়ামের জন্যে হয়ে দাঁড়িয়েছে ঐতিহাসিকে। যারা সবশেষ সেমিফাইনাল খেলেছিল ১৯৮৬ সালে। দীর্ঘদিন পর সোনালী প্রজন্মে ভর করে আবার শিরোপা লড়াইয়ের কাছে রেড ডেভিলসরা। যাদের প্রতিপক্ষ নতুন জাগরুক দল ফ্রান্স।

গত টুর্নামেন্টে লম্বা রেসের ঘোড়া মনে করা হচ্ছিল বেলজিয়ামকে। ভাগ্য সহায় ছিল না তাদের। কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে নিতে হয় বিদায়। রাশিয়ায় এবার সেই দলটি আরও আগ্রাসী। গতিময়তার সঙ্গে কঠিন সব বাধা পার হয়ে সেমিফাইনালে মার্তিনেসের দল। আর সেমি জিতলে এবারই প্রথম ইতিহাসের প্রথম ফাইনাল খেলবে তারা। মুখোমুখি হবে ইতিহাসের। অপর দিকে ফ্রান্সের ফাইনালে ওঠার পরিসংখ্যান সমৃদ্ধ থাকলেও শিরোপা জিতেছিল মাত্র একবার ১৯৯৮ সালে।

তাই ইউরোপীয় দল দুটি যখন মাঠে নামবে, স্বাভাবিকভাবে রোমাঞ্চের সবটুকুট ঢেলে দিতে চাইবে এই ম্যাচে। যেখানে দুই দলেরই সঙ্গী আক্রমণাত্মক ফুটবল। যাদের প্রতিটি পজিশনে আছে অভিজ্ঞ সব তারকা। তাই সেমিতে ফ্রান্সকে নিয়ে বেলজিয়াম মিডফিল্ডার কেভিন ডি ব্রুইনের ভাবনা, ‘সেমিতে পৌঁছালে আপনার কিন্তু যে প্রতিপক্ষ সে খুব সাধারণ কেউ না। ফ্রান্সের সঙ্গে আমরা একই কাতারে রয়েছি। তবে আমরা মানসিক ও শারীরিকভাবে সব কিছু করতে চেষ্টা করবো। কারণ জয় পেতে সব কিছুই করতে চাইবেন আপনি। এটাই ফুটবল।’

বেলজিয়ামের হয়ে মাঠ কাঁপাবেন রোমেলু লুকাকু। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরার এই স্ট্রাইকার। তাই তাকে নিয়ে বেশ সতর্ক ফ্রান্স ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানে। তাটে আটকাতে নিজেদের কৌশল নিয়ে উদ্বিগ্ন ফরাসি এই তারকা, ‘বেলজিয়াম খুবই তরুণ একটি দল। ওরা গড়ে উঠছে। জানি ম্যাচটা কতটা কঠিন হবে। বিশেষ করে লুকাকু শারীরিক ভাবে রক্ষণে হুমকি তৈরি করবে। ওকে আমরা কোনও জায়গা দিতে চাই না। কারণ ও একজন কোয়ালিটি প্লেয়ার।’

আক্রমণ নিয়ে ভাবছে দুই দলেরই কোচই। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম বলেই ফেললেন সে কথা, ‘আমি মার্তিনেসকে চিনি। সে আমার সঙ্গে কৌশল দেখাতে চাইবে। তাকে সেই সুযোগ দেব না।’একইভাবে ভাবছেন বেলজিয়াম কোচ মার্তিনেস, ‘যার কাছে মাঝ মাঠ থেকে বল দেওয়ার যথেষ্ট রসদ থাকবে সে এগিয়ে থাকবে। দেশমের কিন্তু তা রয়েছে।’

দুই কোচ আক্রমণ নিয়ে কথার লড়াইয়ে মেতে উঠলেও পূর্বে মুখোমুখি লড়াইয়ে বৈপরিত্য রয়েছে দুই দলের। বড় টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচের সবগুলোতে জিতেছে ফরাসিরা। যার মধ্যে দুটি লড়াই বিশ্বকাপে। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্স জেতে ৩-১ গোলে। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে এক্সট্রা টাইমের খেলায় ম্যাচটি তারা জেতে ৪-২ গোলে।

তাই বলে পিছিয়ে নেই বেলজিয়ামও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মুখোমুখি লড়াইয়ে বেলজিয়াম জিতেছে ৩০ টি ম্যাচে। ফ্রান্স জিতেছে ২৪টিতে। এ নিয়ে ৭৪বারের মতো মুখোমুখি দুই দল। ড্র হয়েছে ১৯টি। তাই সেমিফাইনাল বলেই ম্যাচটি ছড়াবে উত্তুঙ্গ উত্তেজনা!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *