২৫শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

ফুলেশ্বরী তীরে ইসলাহী জলসার তৃপ্তিময়তা

ফুলেশ্বরী তীরে ইসলাহী জলসার তৃপ্তিময়তা

সা র ও য়া র  আ ল ম  ভূ ঈ য়া

কিশোরগঞ্জ তাড়াইলের বেলংকার হাউড় এলাকা তখন পরিণত হয় পবিত্র এক ইমান-ইসলামী জিন্দগীতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত বান্দাদের এক বিশাল মিলন মেলায়। এক দিকে তাকালে দেখা যায়, কাল গিলাফ আর বোরকায় পুরাদেহ আব্রিত করে পর্দাশীন ঐ এলাকার মা-বোনরা পুরুষ পেন্ডেলের পেছনে, নিরাপদ দূরত্বে, শরয়ী পর্দা মেন্টিন করে গড়ে উঠা পেন্ডেলের দিকে স্রোতের মতো হেঁটে যাচ্ছে। যেন এক ইমানী-ইসলামী জিন্দেগীতে অভ্যস্ত মা-বোনদের বহতা নদী।

ফুলেশ্বরী নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা আল্লামা মাসঊদ দা.বা. এর ৪০০বছরের পুরনো সেই বিশাল ভিটায় আলাদা মিম্বর-আলাদা বয়ান।কেউ সকালের নাস্তা সেরে চলে আসেন অজু-ইস্তিন্জার ও শরয়ী মাসআলা মাসায়েল সম্পর্কিত বয়ান-বক্তব্য শুনতে। কেউ দুপুরের রান্না-বান্না শেষ করে। সব বাড়িতেই ভরপুর মেহমান। শশুর তার মেয়ের বাড়ির সকল আত্মীয় স্বজনদের দাওয়াত করেন এ ইসলাহী ইজতিমাকে কেন্দ্রকরে।এ যেন এক ইসলাহে নফসের মিলনমেলা।

এলাকায় ঘুরে অবগত হলাম, এ তিন দিনের ইজতিমাকে উপলক্ষ করে পাড়া-মহল্লার এমন কোন ঘর নেই যেখান নতুন অতিথির আগমন ঘটেনি

উৎসবমুখর পরিবেশে শিশু-কিশোর-আবাল-বৃদ্ধাবণিতার সরব উপস্থিতি। পাঞ্জাবী-টুপি ও ইসলামী পোশাক-আশাক পরিহিতদের আনাগোনা।টঙ্গি ইজতিমার আদলে আরো একটি যেনো ঈমানদীপ্ত ইজতিমা।

ভোররাত থেকেই তাহাজ্জুদ,৬ তসবিহ-বার তসবিহ এর আমল এর জন্য কোমল- নরম ও মায়াবী কণ্ঠে ইজতিমার পেন্ডেলের মাইক থেকে ডাকা হয়। আসতে আসতে গ্রামের সেই সহজ-সরল দ্বীনী পরিবেশে অভ্যস্ত হতে আগ্রহী মানুষগুলো আমলে জুড়তে শুরু করে। মাদরাসার বিশাল মাঠে যেমন আমল শুরু হয়, তেমনি হযরতের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত, মাদরাসা ভবনের মেহমান খানায়ও মুরীদ ও খলিফারাও আমলে জুড়তে থাকে। আমলি জিন্দেগীর সে পরিবেশ আসলে না দেখলে অনুধাবণ করা যাবে না।

সোহবত ও মা’য়িয়্যত ছাড়া আসলে তা’য়াল্লুক মায়াল্লাহ-ইনাবত ইলাল্লাহ হয় না। বড় হতে হলে বড়দের সোহবত অপরিহার্য্য। বায়আতের এ এক অনুপম সিলসিলা। “ইন্নাল্লাজি-না ইউবা-ইউনাকা ইন্নামা ইউবা ইউনাল্লাহ” এ ভাবেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরু করে গেছেন আল্লাহর নির্দেশিত এ পথটি। সাহাবায়ে কেরাম,তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন, সুলাহায়ে উম্মত এ ধারা অভ্যাহত রেখেছেন।

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ দা.বা. সে ধারার একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। আওলাদে রাসুল, ফিদায়ে মিল্লাত, জানেশীনে হযরত মদনী মাওলানা আসআদ মাদানী রাহিমাহুল্লাহ-এর হাতে ইসলাহে নফসের তা’লীম নিয়ে কিশোরগঞ্জ তথা সারা দেশের হেদায়েত প্রত্যাশীদের নফস এর চিকিৎসা করে যাচ্ছেন।

লেখক : কলামিস্ট

 

 

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com