বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা : প্রধানমন্ত্রী

বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা : প্রধানমন্ত্রী

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। আগে ছাত্র জীবনে এখানে দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতাম। ঘুরে বেড়াতাম বই মেলায়। পুরো সময়টা পারলে থাকতাম। এখন সেটা আর হয়ে উঠে না। তারপরেও বলব বইমেলায় আসতে সবসময়ই ভাল লাগে। এটা আমাদের প্রাণের মেলা।

রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলা একাডেমিতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিল্প, কলা, সাহিত্য, সংস্কৃতিকে আমরা আরো উন্নতমানের করে শুধু আমাদের দেশে না, বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে চাই। আমাদের সাহিত্য আরো অনুবাদ হোক। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ আমাদের সাহিত্যকে জানুক, আমাদের সংস্কৃতিকে জানুক, সেটাই আমরা চাই। বাংলা একাডেমি এ ব্যাপারে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে।’

বাংলা ভাষা বিশ্বব্যাপী মানুষের প্রাণে অনুরিত হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা আজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে মানুষের প্রাণে অনুরণিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এ স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কানাডা প্রবাসী সালাম ও রফিকসহ কয়েকজন বাঙালি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সরকার এ বিষয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উত্থাপন করে। যার ফলে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।’

এর আগে বাংলা একাডেমিতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিকথা নিয়ে লেখা ‘আমার দেখা নয়া চীন’ নামক তৃতীয় বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ।

বইটিতে জাতির পিতার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৫২ সালে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে চীনের একটি শান্তি সম্মেলনে প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তব্য দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । মনোজ বসু তার বইতে লিখেছিলেন, একজন যুবক প্রথম বাংলা ভাষা বক্তব্য দিলো। বাংলাভাষাকে বিশ্ব দরবারে নিয়ে যাওয়া, এটা ১৯৫২ সালেই প্রথম বঙ্গবন্ধু করেছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে ছিলেন আমার মা সব সময় লেখার খাতা কিনে দিয়ে কিছু লেখার জন্য অনুরোধ করতেন। সেই থেকে তার লেখা শুরু।’

বইটি নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে নজর কেড়েছে, একজন রাজনৈতিক নেতা। দেশে এতো অত্যাচার ভোগ করে চীনে গেলেন, সেখানে তিনি দেশের এসব অত্যাচারের কথা কাউকে বলেননি। বরং তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে যা হচ্ছে সেটাতো হচ্ছেই। আমরা তো বিদেশে এসে বদনাম করতে পারি না। কিন্তু আমরা এখন দেখি অনেকেই বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করতে গেলে আরও একটু উৎসাহ নিয়ে বলেন। যা না ঘটে তা একটু বেশি করে বলেন। এই প্রবণতাটা আমরা দেখি। আমি দীর্ঘদিন বঙ্গবন্ধুর আমার দেখা নয়া চীন বইটি নিয়ে কাজ করেছি। বইটি পড়ার পর আমি কয়েকবার চীনে গিয়েছি। আমি দেখি, এই বইয়ে তিনি চীন সম্পর্কে যে ভবিষ্যৎ বাণী করেছেন, আজকের চীন ঠিক সেই জায়গায় উন্নতি করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘আমরা এখানে দেখি আমাদের দেশে অনেকেই বিদেশিদের কাছে আমাদের দেশের বদনাম করতে গেলেই যেন আরো বেশি উৎসাহিত হয়ে যা না ঘটে তা আরেকটু বেশি করে বলে। এই প্রবণতাটা আমরা দেখি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ প্রকাশিত হলেও চীন সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখাটি সব থেকে পুরনো বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী মেলা ঘুরে দেখেন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। আমি দাবি করে বলতে পারি, গত দশ বছর ক্ষমতায় থেকে এখন বাংলাদেশ কেউ ছোট চোখে দেখতে পারে না। বাংলাদেশকে এখন উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখে। যে জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা নিয়ে আসে, সে জাতিকে কেউ হেয় বা ছোট করে দেখবে সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না। আমরা বিজয়ী জাতি, বিশ্ব দরবারে মাতা উঁচু করে চলবো, বিজয়ের বেশে চলবো এবং সেই ভাবে আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই। জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা মুক্ত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা, ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *