৫ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ২০শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ৮ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

বছরে উৎপন্ন হচ্ছে ৩৬ হাজার কোটি টাকার ইলিশ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : এখন ইলিশের মৌসুম। বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম চাঁদপুরের বড়স্টেশন বাজার। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইলিশের পাইকারি এই বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়তে থাকে। এখানকার ইলিশের বড় জোগান দক্ষিণের সাগর।

তার সঙ্গে মিলছে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার ইলিশ। পুরো উপকূলীয় অঞ্চলেই এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে সাগরে। গত মাসে শুরু হওয়া ইলিশের এই মৌসুম শেষ হবে ডিসেম্বরে।

গত অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপন্ন হয়েছে প্রায় ছয় লাখ টন। এ বছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক হয়নি। ভোক্তা পর্যায়ে এখন প্রতি কেজি ইলিশের বাজারমূল্য গড়ে ৬০০ টাকা ধরলে ছয় লাখ টন ইলিশের বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। শুধু ইলিশ ধরার পেশায় নিয়োজিত আছেন প্রায় পাঁচ লাখ জেলে। পরিবহন, বাজারজাত মিলে ধরলে আরো কয়েক লাখ মানুষ এর সঙ্গে যুক্ত।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) হিসাবে, একক প্রাকৃতিক পণ্য হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান ইলিশের। জাতীয় অর্থনীতিতে বা জিডিপিতে মাছটির অবদান ১ শতাংশের মতো।

২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন ছিল ৪৬ লাখ ২১ হাজার টন। এর ১২.২৩ শতাংশ ছিল ইলিশ। বিশ্বের উৎপন্ন ইলিশের প্রায় ৭৫ শতাংশই বাংলাদেশে হচ্ছে। মিয়ানমারে ১৫ শতাংশ, ভারতে ৫ এবং অন্যান্য দেশে ৫ শতাংশ ইলিশ মাছ উৎপন্ন হচ্ছে।

সম্প্রতি এই মাছটির ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদও পেয়েছে বাংলাদেশ। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতির অন্যতম বড় পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলিশ।

মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ বলেন, ইলিশকে শুধু খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। লোকজ আচার ও সংস্কৃতির হাজার বছরের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে ইলিশকে সুরক্ষা ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।

  • সাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে বেশি

গত কয়েক দিনের তুলনায় মোকামে ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। চাঁদপুরে সম্রাট বেপারী নামের একজন মাছ ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে জানান, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় ধরা দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নোয়াখালীর দক্ষিণ হাতিয়া থেকে ইলিশের চালান নিয়ে আসা আলমগীর হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলেরা গভীর সাগরে যেতে পারছেন। তাঁদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। ভোলার চরফ্যাশনের মাছ বেপারী রহমত আলী জানান, এবার মাঝারি ও ছোট আকারের ইলিশ বেশি ধরা পড়ছে।

সাগরে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপের পর থেকে বেশ বড় ইলিশও পাওয়া যাচ্ছে। জেলেরা খুব খুশি। ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতুলি মাছ ঘাটে জেলে মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, গত ১৫ বছরেও এত বড় ইলিশ দেখা যায়নি মেঘনা নদীতে। এ বছর নদীতে মাছ কম থাকলেও মাঝেমধ্যে জালে আড়াই থেকে তিন কেজি ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্যাহ জানান, সাগরে প্রচুর বড় বড় ইলিশ ধরা পড়ছে। এ মাছের কিছু কিছু মাঝেমধ্যে মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতেও দেখা যায়। তবে সংখ্যায় কম। মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশ ধরা না পড়ার কারণ অনাবৃষ্টি ও নদীর গভীরতা কমে যাওয়া বলে মনে করছেন তিনি। তাঁর মতে, সাগর মোহনায় ডুবোচরের কারণে মাছ নদীতে আসতে পারছে না। নদী থেকে অবৈধ জাল অপসারণে মৎস্য বিভাগ অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক অবৈধ জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com