বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ সরকার : ফখরুল

বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ সরকার : ফখরুল

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি চলছে, এই পরিস্থিতি সভ্য সমাজের নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ একটি অসভ্য সমাজে পরিণত হয়েছে। যে সমাজে কোনো নৈতিকতা নেই, যে সমাজে কোনো বিচার নেই, যে সমাজে কোন আইনের স্বাধীনতা নেই, আজকে আমরা সেই সমাজে পরিণত হয়েছি।

ফখরুল বলেন, এই অবস্থার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী আজকের আওয়ামী লীগ সরকার। তারা এই সমাজে ভয়ঙ্কর নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। সারাদেশে যারা ধর্ষণ, অত্যাচার, অবিচারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তারা এই সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে। এ কারণেই তারা আরও বেশি অপকর্ম করতে উৎসাহিত হচ্ছে।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বারবার বলে আসছি এই সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নিয়ে আসেনি। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তাদের একটাই লক্ষ্য, একটি একদলীয় শাসনব্যবস্থা। আজকে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতায় বসে রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা যে চেতনা নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছিলাম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করার জন্য একটি গণতান্ত্রিক সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। কিন্তু এই সরকার আমার সব স্বপ্ন ধ্বংস করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজ কেন আমাদের দেশের নারীদের নিরাপত্তার অভাব? কেন দেশের শিশু নির্যাতিত হচ্ছে? এর একটাই কারণ, এই সরকার জনগণের সরকার নয়। এ সরকার তাদেরকেই মদদ দেয়, যারা সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য গুন্ডামি করে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে। আমাদের একটা কথা মাথায় রাখতে হবে, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা ইচ্ছা তা করবে। এ সরকার শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে এভাবে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত একটা পরিবেশে বাস করতে চেয়েছে। একটা মুক্ত পরিবেশে থাকার জন্য সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এই বাংলাদেশকে তো আমরা দেখতে চাইনি। আমরা তো চেয়েছি একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা চেয়েছি এমন একটা দেশ যে দেশে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, মানুষের স্বাধীনতা থাকবে, মতের ভিত্তিতে একটা সৌরভ ছড়িয়ে পড়বে। সেটা হবে গণতন্ত্রের সৌরভ। এজন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।

একযুগ ধরে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, এই সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে, মানুষের অধিকারকে ধ্বংস করেছে। একটা মানুষের যে নূ্যনতম বেঁচে থাকার অধিকার, একটা নারীর, একটা শিশু বেঁচে থাকার যে অধিকার, সে অধিকার থেকে সরকার বঞ্চিত করেছে। এ সমাজ থেকে প্রতিকার পেতে, আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং নিজেদের রক্ষা করতে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে হবে, আর কোনো সময় দেয়া যাবে না। আমরা বরাবরই বলে আসছি আজও বলছি আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। কথা একটাই এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মহিলা দলের নেত্রী শাম্মী আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন মনি, আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

/এএ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *