পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ১৯৯৫ সালে পূর্ব বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় স্রেব্রেনিকা গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। বসনিয়ার জনগণের ওপর চালানো সেই গণহত্যায় বহু মুসলমানের প্রাণ যায়। গণহত্যার ২৭তম বার্ষিকীতে এক স্মরণসভায় ডাচ মন্ত্রী বসনিয়াক পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। গতকাল সোমবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পোটোকারিতে কবরস্থানে গিয়ে ক্ষমা চান প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাজসা ওলোনগ্রেন। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
ডাচ শান্তিরক্ষী সৈন্যদের উপস্থিতি সত্ত্বেও ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বসনিয়ান সার্ব বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় শহর স্রেব্রেনিকায় আক্রমণ করে। এ সময় তারা ৮ হাজারেরও বেশি বসনিয়ান মুসলিম পুরুষ এবং ছেলেদের হত্যা করেছিল। সার্ব বাহিনী এলাকাটি দখল করার কারণে ডাচ সৈন্যরা গণহত্যা প্রতিরোধ করতে করতে ব্যর্থ হয়। শুধু ১১ জুলাই প্রায় ২ হাজার পুরুষকে হত্যা করা হয়।
কাজসা ওলোনগ্রেন বলেছেন, স্রেব্রেনিকাকে চূর্ণ করা হয়েছিল, যা প্রতিরোধে নেদারল্যান্ডস ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছিল। এই কারণে আমরা গভীরভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিরীহ মানুষকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ওলোনগ্রেন বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্রেব্রেনিকার জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। ডাচ সরকার যে পরিস্থিতিতে গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছিল, তার রাজনৈতিক দায় এড়ানো যায় না। তবে আমরা যা করতে পারি, তা হলো ইতিহাসের দিকে সরাসরি নজর দেওয়া, সোজা চোখে ইতিহাসকে দেখা।
১৯৯৫ সালে কি ঘটেছিল:
গণহত্যার সময় স্রেব্রেনিকার প্রায় ১৫ হাজার বাসিন্দা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যায়। কিন্তু সার্ব সৈন্যরা তাদের ধরে ধরে হত্যা করে। আরও ৬ হাজার মানুষের এভাবেই হত্যা করা হয়। সারা দেশে ৫৭০টি স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
২০০৭ সালে হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস রায় দেয়, স্রেব্রেনিকাতে যে হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছিল, তা ছিল গণহত্যা। আদালত নেদারল্যান্ডসকে ৩০০ বসনিয়াক নাগরিককে সার্বদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে, যারা স্রেব্রেনিকা দখলের সময় ডাচ সৈন্য এবং জাতিসংঘের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল।


