৩রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে দেশে ফিরে আসা অভিবাসীদের ধীরগতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাত রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা দেখা দিয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের এক নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

বৈশ্বিক অভিবাসন ও উন্নয়নের ওপর বৈশ্বিক এই ঋণদাতার “কোভিড-১৯ ক্রাইসিস থ্রু এ মাইগ্রেশন লেন্স” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রাক-মহামারি এবং ২০২০ সালের মাত্রার উপরে প্রায় ৬% বা ২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তারপরও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির মন্থরতা স্বতন্ত্র।

২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য রেমিট্যান্সের দৃষ্টিভঙ্গি অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে উল্লেখ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাই-ফ্রিকোয়েন্সি ডেটা অনুসারে বেশিরভাগ দেশেই মন্দার লক্ষণ দেখা গেছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে এ বছরের প্রথম নয় মাসে রেমিট্যান্সে মন্থর প্রবৃদ্ধি ইতোমধ্যে ২০২২ সালে নিম্নমুখী ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্সের শীর্ষস্থান আবারও ভারতের দখলে যাচ্ছে। তারপরেই রয়েছে পাকিস্তানের নাম। তবে ধীরগতি সত্ত্বেও, রেমিট্যান্স গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জিডিপি’র ৬.৫%-এর বেশি। যা ২০২০ সালেও জিডিপি’র ৬.৬% ছিল।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলে বাংলাদেশ থেকে কর্মী মোতায়েন ১৯% কমেছে।

জিসিসি’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে লাখ লাখ প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য ভিসা/ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করার গতিতে মন্থরতা, বিশেষত কিছু দেশের সরকার তাদের নিজস্ব কর্মীদের কর্মসংস্থানের প্রচার করতে চাওয়ায় অভিবাসীদের কাজ হ্রাস পাচ্ছে। যার ফলে ২০২২ সালে দক্ষিণ এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলে কম রেমিট্যান্স প্রবাহ ঘটবে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি অনেকটাই অনিশ্চিত। লকডাউনের সময় যারা দেশে ফিরে এসেছে, তারা কঠোর অভিবাসন বিধি এবং কর্মী ভিসা ইস্যু করার কারণে পূর্বের চাকরিতে ফিরে যেতে পারবে না।

সৌদি আরব ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ১২% কম ওয়ার্ক ভিসা ইস্যু করেছে। যেখানে ওমান ২০২১ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভিসা ১৫% হ্রাস করেছে।

মাঝারি মেয়াদে কম দক্ষ দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের জন্য ভবিষ্যৎ তাই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অন্যদিকে, জিসিসি’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি ৫০ লাখ অভিবাসীর মধ্যে অন্তত অর্ধেকই কম দক্ষ শ্রমিক।

বর্তমানে, একজন বাংলাদেশি অভিবাসীর গড় মাসিক রেমিট্যান্স ২০৩ ডলার (১৭ হাজার ৪২৪ টাকা) যেখানে একজন পাকিস্তানি পাচ্ছেন ২৭৬ ডলার (২৩ হাজার ৬৮৯ টাকা) এবং একজন ভারতীয় পাচ্ছেন ৩৯৬ ডলার (৩৩ হাজার ৯৮৯ টাকা)।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরও দক্ষ বাংলাদেশি অভিবাসীদের কাছ থেকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি বাংলাদেশ এবং এর অভিবাসীদের জন্য একটি অপ্রত্যাশিত লাভ হতে পারে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com