‘বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত, ভারতে মুসলমানরা নির্যাতিত’

‘বাংলাদেশে হিন্দুরা সুরক্ষিত, ভারতে মুসলমানরা নির্যাতিত’

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হয় না। তারা বাংলাদেশে সুরক্ষিত। বরং ভারতে মুসলমানরা সুরক্ষিত নয়। সেখানে মুসলমানরা নির্যানের শিকার হয়।’

আসামের গুয়াহাটিতে দুই দিনব্যাপী ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্মেলনে বাংলাদেশের সাথে ভারতের উত্তর-পূর্ব ৮টি রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। ভারতের আসামের প্রভাবশালী বেসরকারি টিভি চ্যানেল প্রতিদিন টাইমসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হয় না বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভারতে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হয়। ভারতের উত্তর অংশে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আসামের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক যুগশঙ্খ গুয়াহাটি, শিলচর ও কলকাতা সংস্করণে ‘বাংলাদেশের হিন্দুরা সুরক্ষিত, ভারতের মুসলিমরা নন’ শিরোনামে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সির মন্তব্য সংবলিত সংবাদ গুরুত্বসহকারে ছেপেছে।

বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর ধর্মীয় নির্যাতন নিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ আমাদের দেশ। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে। হাজার হাজার দুর্গাপূজা হচ্ছে প্রতিবছর।

আমাদের রংপুরে ১৫৬টি দুর্গাপূজা হয়েছে, আমি মণ্ডপে গিয়ে আনন্দ করেছি। গভীর রাত অবধি নাড়ু খেয়ে ঘুরেছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আমরাও সেটা মানি। তাই সবাই উৎসবে যোগ দেই।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমান দাবি করেন, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন ধরে আমরা একসঙ্গে বসবাস করছি। তবে সমাজে দু-একজন বদ মানুষ সবখানেই থাকে। তার জন্য গোটা দেশ বা জাতিকে বদনাম করা যায় না। ব্যক্তিগত পর্যায়ের ছোট-খাটো সমস্যা সরকারের নীতি বা দেশের পরিস্থিতি বলে বিবেচনা করা যায় না।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *