নিজস্ব প্রতিবেদক ● বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত মিকায়েল হেমনিটি উইনথার বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃত এবং স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি অর্থনৈতিক উন্নতি ও অর্জনের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য লাভ করেছে।
তিনি বলেন, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, দেশটির স্বাধীনতার পর থেকে গর্ববোধ করার মতো অনেক অর্জন রয়েছে।’
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ‘ডিক্যাব’ আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’-এ ডেনিশ রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
ডিক্যাব সভাপতি রেজাউল করিম লোটাসের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পান্থ রহমান।
ডেনিশ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়নের সহযোগী ডেনমার্ক একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দরিদ্রবান্ধব এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি তথা মানবাধিকারের উন্নয়নে বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য ডেনমার্কের চলমান উন্নয়ন কর্মসূচি বাংলাদেশে সার্বিক উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সরকারের রূপকল্প-২০২১ এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সহায়তার অংশীদার হওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে একটি বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বি-মুখী বাণিজ্য দ্বিগুণ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে ডেনমার্কে রপ্তানির সিংহ ভাগই তৈরি পোশাক সামগ্রী, যা বাংলাদেশ থেকে মোট আমদানির ৯২ শতাংশ।
অন্যান্য রপ্তানি সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রগামী জাহাজ, হিমায়িত খাদ্য, কৃষি সামগ্রী, পাটজাতপণ্য, রাসায়নিক সামগ্রী, মাছ এবং মৎস্যজাত সামগ্রী।
তিনি বলেন, ৭০টিরও বেশি ডেনিশ কোম্পানি সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) অথবা যৌথ উদ্যোগে বা বাংলাদেশে লিয়াজো অফিস স্থাপনের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালু করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, নগরীর হলি আর্টিজান বেকারীতে গত বছরের ১ জুলাইয়ে বিদেশীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিদেশীরা (কূটনীতিকরা) ‘খুবই সন্তুষ্ট’।


