বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা : ইইউ রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা : ইইউ রাষ্ট্রদূত

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে চোখে-চোখ রাখা সম্পর্ক বলে অবহিত করেছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। ইউক্রেন যুদ্ধে বাংলাদেশ ইউরোপের পাশে দাঁড়াবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে ইউরোপের বিনিয়োগে একটি উইন-উইন সিচুয়েশন তৈরি হবে। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন-বাংলাদেশের মধ্যে ৫০ বছর সম্পর্কের পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এখানে (বাংলাদেশে) অনেক ইউরোপীয় কোম্পানি রয়েছে, যারা ব্যবসায় করে অনেক টাকা কামিয়েছে। অতীতেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু একটা বড় ইস্যু। এই ইস্যুতে আমরা চেষ্টা করছি ন্যয়বিচার নিশ্চিত কর‍তে একইসাথে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে। ৩ কোটি রোহিঙ্গা দেশে আসছে। এটা একটা বড় সংখ্যা।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, আমি সব সময়ই বলি ইইউ একটি চালাক সংগঠন। তারা একটা ধারণা নিয়ে এসেছে, ভর্তুকি। এটা আমি আমার ডিকশনারিতে খুঁজে পাইনি। বাংলাদেশের বাজার পুরোপুরি রফতানিযোগ্য নয়। আমাদের রফতানিযোগ্য পণ্যও আমদানি করতে হয়। এজন্য আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ দরকার। মজুরি বাড়বে না, যদি না উৎপাদন বাড়ে, উৎপাদন বাড়বে না যদি না পর্যাপ্ত কাঁচামাল না বাড়ে। সুতরাং ম্যান-মেশিন এইসব কিছুই পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। আমাদের জনশক্তিকে আরও যোগ্য করে তুলতে হবে। প্রাইভেট সেক্টরকে আরও সক্ষম হয়ে উঠতে হবে সরকারি সহায়তার জন্য।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ কি সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ১৯৭৩ সালে, যখন কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়, এরপর ২০০১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুল্ক ছাড় দেয়। আমাদের বাণিজ্যের জন্য কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ইইউ সেটা আমাদের বুঝতে হবে। ২০০০- ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে ইইউতে রফতানি ২ বিলিয়ন থেকে ২৩ বিলিয়ন এ উন্নীত হয়েছে ২০২২-২৩ সালে। মোট পোশাক রফতানির প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে ইইউ থেকে। এছাড়া ৭০ শতাংশ ট্যারিফ প্রেফারেন্স পাচ্ছে। ৯৫ শতাংশের বেশি রফতানি পণ্য শুল্ক ছাড় পাচ্ছে। ইউরোপে চীনের রফতানি প্রবৃদ্ধি ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ, বাংলাদেশের ২২ দশমিক ২ শতাংশ৷ তিনি, ইইউর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী কৌশল অবলম্বন এবং পরিকল্পনা তৈরি করা, পাশাপাশি টেকসই উৎপাদন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনে জোর দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যে এগিয়ে আসছে। জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম এগিয়ে আসছে। কেনো আসছে? নিশ্চয় সুবিধার জন্যই। আমরা চ্যাট জিপিটি, এআই নিয়ে অনেক কথা বলছি। দৃশ্যপট বদলাচ্ছে। এই সময়ে এসে অনেকগুলো দেশের উত্থান দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশ ছোট দেশ হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাসহ অতিরিক্ত জনসংখ্যা ধারণ বাংলাদেশের শক্তি সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে৷ আমাদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সম্পর্ক করতে হবে, তেমনে কৌশলগত গুরুত্বও বাড়াতে হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমরা জানি আমাদের শুধু একটা আইটেমের উপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এজন্য অন্য সেক্টরগুলোও এগিয়ে আসছে৷ ৬ শতাংশ থেকে ইউরোপে আমাদের মার্কেট শেয়ার প্রায় ২০ শতাংশ হয়েছে। আরএমজি, ফ্রোজেন ফুড, লেদার প্রোডাক্ট, মেশিনারিজসহ আরও অনেকগুলো পণ্য আছে যা পুরোপুরি রফতানিযোগ্য। যদিও আমরা জিএসপি সুবিধা ভোগ করছি, তবে সেটি ২০২৯ সাল নাগাদ শেষ হবে। কাজেই, চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আমাদের এখন থেকেই এটার প্রভাব নিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।

র‍্যাপিডের আয়োজনে সেমিনারে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ এবং ফ্রেডরিক ইবার্ট স্টিফটাংয়ের আবাসিক প্রতিনিধি ফেলিক্স কোলবিজ। প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *