২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

বাড়ছে যমুনার পানি, বিলীন হচ্ছে বাড়িঘর

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বাড়ছে। নদীভাঙনে ২০টি বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা, তিস্তাসহ সব কটি নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এতে চর এলাকার ফসল তলিয়ে যাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) হাসানুর রহমান শনিবার জানান, ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ১.৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী যমুনা নদীতে আরো তিন-চার দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। খুকনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুল্লক চাঁদ মিয়া জানান, শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ২০টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

এছাড়া হুমকির মুখে আছে অনেক বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয়প্রতিষ্ঠানসহ আবাদি জমি। পাউবো ভাঙন স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছে। ভাঙনরোধে এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলার কয়েকটি স্থানে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে। চৌহালীতে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শুষ্ক মৌসুমে কাজ শুরু হবে।

যমুনার পাশাপাশি জেলার ফুলজোড়, ইছামতী, করতোয়া, বড়াল ও চলনবিলেও পানি বাড়তে শুরু করেছে। নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিচু এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার কাঁচা পাট, তিল, বাদাম, আখ ও শাকসবজি ক্ষেতে পানি উঠতে শুরু করেছে।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, শনিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তায় ১০, সেতু পয়েন্টে ধরলায় ৬ ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রে ১ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। পানি বাড়ায় তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার বাদাম, ভুট্টাসহ বেশ কিছু ফসলের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অতি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পাট ও সবজিক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত ও উজানে সীমান্তবর্তী ভারতীয় অংশে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জেলায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। তবে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম।’

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে গেছে। তবে হাতিবান্ধা ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের ১০ গ্রামের নিম্নাঞ্চলের পানি ধীরগতিতে নামছে।

ঝিনাইগাতীর লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহারশী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনকবলিত অংশগুলোয় ঢলের পানি ঢুকে ঝিনাইগাতীর বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এ কারণে বন্যা প্রতিরোধে মহারশী নদীর দুই তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com