বায়ুদূষণের শিকার ঢাকা
সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই
পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট থাকা ও সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। যে পরিবেশে আমরা বেড়ে উঠছি, বসবাস করছি, রান্না করছি, শিশুদের পরিচর্যা করছি তা উপযোগী নয়- তা পরিবেশ বিশ্লেষকগণ বার বার বলে যাচ্ছেন। উন্নয়নপ্রকল্প বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের রাজধানী ঢাকা সর্বোচ্চ বায়ুদূষণের শিকার হয়েছে।
দেশের যেকোনো শহরের তুলনায় ঢাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এ গলার কাঁটা আমাদেরই ছাড়াতে হবে। এ থেকে বাঁচার উপায় আমাদেরই বের করতে হবে। আমরা জানি, বাংলাদেশকে বলা হয় সবুজের দেশ। নদ-নদী, হাওর-বাঁওড়ের দেশ। বায়ুদূষণের জন্য এমন একটি দেশের রাজধানীর নাম ঘুরেফিরে আলোচিত হবে তা কখনোই কাক্সিক্ষত ছিলো না। আলোচিত বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে যেসব শহরের নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে ঢাকা তার মধ্যে একটি। এ তালিকায় দূষিত বায়ুর শহরের তকমা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কখনো ঢাকা আবার কখনো দিল্লির দখলে থাকছে। এ তালিকায় আরও আছে করাচি, কলকাতা ও লাহোরের নামও। তবে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ও দিল্লি ছাড়া অন্য শহরগুলোর নাম থাকছে দ্বিতীয়, তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে।
বিশ্বের শীর্ষ ১০ দূষিত বায়ুর নগরীর তালিকা করলে চীনের বেইজিং, মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর, উজবেকিস্তানের তাশখন্দ ও ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরের নাম আসবে। বিশ্বের বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার ভিজুয়ালের পর্যবেক্ষণে ঢাকা শহরের বায়ুর মান গত এক মাস ধরেই অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের বাতাসে ভাসমান ভারী বস্তুকণা বেড়ে যাচ্ছে।
শহরের চারপাশের ইটভাটাগুলোর ধোঁয়া, শহরজুড়ে নির্মাণকাজের খোঁড়াখুঁড়ি আর যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ুদূষণ ঘটাচ্ছে। বিশ্বের যে পাঁচটি দেশের শতভাগ মানুষ দূষিত বায়ুর মধ্যে বসবাস করে তার একটি বাংলাদেশ। আর বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে। বায়ুদূষণে ২০১৭ সালে দেশে মারা গেছেন ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।
বায়ুদূষণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে ও স্বাস্থ্যহানির কারণ ঘটায়। দুনিয়াজুড়ে বায়ুদূষণ রোধে যখন জনসচেতনতা গড়ে উঠছে, তখন আমাদের দেশে দূষণের আগ্রাসন অস্বস্তিকর। বায়ুদূষণ রোধে দেশে আইনের অভাব নেই। তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে সীমাহীন শিথিলতা।
দেশের মানুষ যাতে স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারে তা নিশ্চিতে বায়ুদূষণ রোধে সচেতন হতে হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দায়বোধ বাড়াতে হবে। সবার আগে জনসচেতন হতে হবে।


