৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৮শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বিতিরের নামাজ ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদার কাযা আদায় করতে হবে কি?

প্রশ্ন:
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته
সম্মানিত মুফতি সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হচ্ছে, বিতিরের নামাজ ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা নামাজ যেমন: যোহর ও ফজরের সুন্নাত প্রভৃতি নামাজ কারণ বশত যদি কেউ যথা স‌ময়ে আদায় করতে না পারে, তাহলে পরবর্তীতে কি সেগুলোর ক্বাযা পড়তে হবে?

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم.
হ্যাঁ, বিতিরের নামাজ কারণ বশত যথা সময়ে আদায় করতে না পারলে, পরবর্তী সময়ে তা অবশ্যই ক্বাযা পড়তে হবে। কেননা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতসহ বিশুদ্ধতম মতানুসারে বিতিরের নামাজ ওয়াজিব (অবশ্য পালনীয়)।
এ মর্মে আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

مَنْ نَامَ عَنْ وِتْرِهِ أَوْ نَسِيَهُ فَلْيُصَلِّهِ إِذَا ذَكَرَهُ.

অনুবাদ:
যে ব্যক্তি নিদ্রা বা ভুলের কারণে বিতিরের নামাজ আদায় করে নাই, সে যেন তা স্মরণ হওয়ার পরপরই আদায় করে নেয়।
(আবু দাউদ ১৪৩১)

হযরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত:
রাসূল (সা.) বলেন;

الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا الْوِتْرُ حَقٌّ فَمَنْ لَمْ يُوتِرْ فَلَيْسَ مِنَّا.

অনুবাদ:
বিতিরের নামাজ অপরিহার্য। যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিতরের নামাজ অপরিহার্য। যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। বিতরের নামাজ অপরিহার্য। যে বিতর পড়বে না সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
আবু দাউদ, হাদিস: ১৪২১
আলবাহরুর রায়েক- ২/৬৬
বাদায়েউস সানায়ে- ২/২২২

হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন;

يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ ، أَوْتِرُوا ، فَإِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ.

অনুবাদ:
হে আহলে কুরআন, তোমরা বিতিরের (বেজোড়) নামাজ আদায় করো। কারণ, নিশ্চয় আল্লাহ হচ্ছেন- বেজোড়। তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।
(আবু দাউদ- ১৪১৬, নাসায়ী- ১৮৭৮
ইবনু মাজাহ- ১১৬৯)

হযরত খারিজাহ ইবন হুযাফা আল-আদাবী রাযি. হতে বর্ণিত: তিনি বলেন,
একবার আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ ﷺ এসে বলেন;

‏ إِنَّ اللَّهَ أَمَدَّكُمْ بِصَلاَةٍ هِيَ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ الْوِتْرُ جَعَلَهُ اللَّهُ لَكُمْ فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ إِلَى أَنْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ.

অনুবাদ:
নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা একটি নামাজ দিয়ে তোমাদের সাহায্য করেছেন। এটা তোমাদের জন্য অনেক লাল উটের চেয়েও উত্তম তা হল বিতিরের নামাজ। আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য এটা ইশা ও ফজরের মধ্যবর্তী সময়ে আদায়ের জন্য নির্ধারণ করেছেন।
(আবু দাউদ- ১৪১৮, তিরমিযী- ৪৫২,
ইবনু মাজাহ- ১১৬8)

وفي مسند أحمد:
أن عمرو بن العاص خطب الناس يوم الجمعة، فقال : إن أبا بصرة حدثني أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: ” إن الله زادكم صلاة، وهي الوتر، فصلوها فيما بين صلاة العشاء إلى صلاة الفجر “. قال أبو تميم : فأخذ بيدي أبو ذر، فسار في المسجد إلى أبي بصرة، فقال له : أنت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ما قال عمرو ؟ قال أبو بصرة : أنا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم.
حكم الحديث: إسناده صحيح، رجاله ثقات.

হাদীসের অর্থ:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত নামাজ দিয়েছেন, সেটি হল বিতিরের নামাজ। তোমরা তা ইশা ও ফজরের নামাজের মাঝে আদায় করো।
হাদিস নং:- ২৩৮৫১

সুতরাং কারণ বশত যদি কখনো কারও বিতিরের নামাজ ছুটে যায়, তাহলে পরবর্তীতে তা কাযা পড়ে নিতে হবে।

কিন্তু সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাজের কোন কাযা নেই। তবে ফজরের নামাজ যদি সুন্নাতসহ কাযা হয়, আর তা সেই দিনের জোহরের নামাজের আগে আদায় করা হয়, তাহলে কাযা পড়া মুস্তাহাব। যদি সেদিনের যোহরের নামাজের পর আদায় করা হয়, তাহলে ফজরের সুন্নাতের কাযা পড়তে হবে না।

আর জোহরের ফরজের পূর্বের চার রাকাত সুন্নাতে মুআক্কাদা ফরজের আগে পড়তে না পারলে, ফরজের পরে সেদিনের আসরের আগেই পড়া উত্তম। জরুরী নয়।

فى رد المحتار:
(قوله وكذا حكم الوتر) لأنه فرض عملي عنده
(رد المحتار- كتاب الصلاة، باب قضاء الفوائت، مطلب فى اسقاط الصلاة عن الميت-2/، 440،533)

وفيه ايضا:
لكن لما كان القضاء خاصا بما كان مضمونا والنفل لا يضمن بالترك اختص القضاء بالواجب ، ومنه ما شرع فيه من النفل فأفسده فإنه صار بالشروع واجبا فيقضى ، وبهذا ظهر أن الأداء يشمل الواجب والمندوب ، والقضاء يختص بالواجب.
(رد المحتار- كتاب الصلاة، باب قضاء الفوائت، مطلب فى ان الأمر يكون بمعنى اللفظ، وبمعنى الصفة-2/519)

وفيه ايضا:
(بخلاف سنة الظهر) وكذا الجمعة (فإنه) إن خاف فوت ركعة (يتركها) ويقتدي (ثم يأتي بها) على أنها سنة (في وقته) أي الظهر (قبل شفعه) عند محمد، وبه يفتى جوهرة
(رد المحتار- كتاب الصلاة، باب ادراك الفريضة- 512-513

فى موطا مالك:
و حدثني عن مالك أنه بلغه أن عبد الله بن عمر فاتته ركعتا الفجر فقضاهما بعد أن طلعت الشمس (موطا مالك- النداء للصلاة، باب ما جاء في ركعتي الفجر. رقم-422

অনুবাদ:-
হযরত ইমাম মালেক রহ: বলেন, আমি জেনেছি যে, আবদুল্লাহ বিন ওমর রা: এর ফজরের দুই রাকাআত ছুটে গিয়েছিল। তিনি তা সূর্যোদয়ের পর আদায় করেন।
(মুয়াত্তা মালিক-৪৫)

وفى جامع الترمذى:
عن أبي هريرة قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم من لم يصل ركعتي الفجر فليصلهما  بعد ما تطلع الشمس
(جامع الترمذى- أبواب الصلاة عن رسول الله صلى الله عليه و سلم، باب ماجاء في إعادتهما بعد طلوع الشمس،رقم-423)

অনুবাদ:-
হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত যে, নবীজি সা: বলেন-যে ফজরের দুই রাকআত সুন্নত (সময়মতো) পড়ল না সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে।
(জামে তিরমিজী-১/৯৬)

والله اعلم بالصواب

লেখক ও গবেষক : মুফতি আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া
শিক্ষক, জামিআ ইকরা বাংলাদেশ, ঢাকা।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২১ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com