বিন সালমান ও নেতানিয়াহুর বৈঠক নিয়ে তোড়জোড়

বিন সালমান ও নেতানিয়াহুর বৈঠক নিয়ে তোড়জোড়

বিন সালমান ও নেতানিয়াহুর বৈঠক নিয়ে তোড়জোড়

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সমগ্র পৃথিবীর একটা চোখ পড়েই থাকে সৌদি আরবের উপর। এটা যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান বা বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ-এর কারণে নয়। সৌদিতে অবস্থিত আল্লাহর ঘর কাবা শরীফ এবং হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামমের পবিত্র রওযার কারণে বিশ্বে আরবের গুরুত্ব, সৌদির গুরুত্ব। কারণ, সমগ্র বিশ্ব মুসলিমের ভালোবাসা কাবা এবং নবীজীর রওযা। আর সে কারণেই যত আলোচনা সমালোচনা বর্তমান সরকারের বিন সালমানকে নিয়ে। নবীজী ইহুদীদের আরব থেকে বের করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমান সৌদী সরকারের উপর অভিযোগ, তারা ইহুদিদের সঙ্গে আঁতাত করে চলছে।

শোনা যাচ্ছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সাক্ষাৎ আলোজনের জন্য চলছে ব্যাপক তোড়জোড়। খবর দিয়েছে মিশরের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র। সূত্রগুলো বলেছে, এ লক্ষ্যে কয়েকটি আরব দেশ এবং আমেরিকা ও ইসরাইলের প্রতিনিধিরা কায়রোয় ব্যাপকভিত্তিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রগুলো আরবি দৈনিক খালিজ অনলাইনকে জানিয়েছে, মিশর, সৌদি আরব, আমেরিকা ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা গত ২৫ দিনে কায়রোয় অন্তত তিনটি বৈঠক করেছেন। নেতানিয়াহু ও মোহাম্মাদ বিন সালমানের মধ্যে সম্ভাব্য সাক্ষাতের খুটিনাটি নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রবল আগ্রহের কারণে এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হচ্ছে বলেও মিশরীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

খালিজ অনলাইনকে দেয়া এক বিবৃতিতে সূত্রগুলো বলেছে, দখলদার ইসরাইলের জন্য সৌদি আরবের দরজা উন্মুক্ত করে দেয়ার জন্য রিয়াদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় অনুরাগ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ইসরাইলের সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় সৌদি আরব।

মিশরের কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো বলেছে, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায় সৌদি আরব যাতে অন্যান্য আরব দেশও সহজেই রিয়াদকে অনুসরণ করে তেল আবিবকে স্বীকৃতি দিয়ে এই অবৈধ দখলদার শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।

আর আগে তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। মায়ারিভের বিশ্লেষক জেকি হুজি জানিয়েছেন, তিনি তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন গত ১৮ জুন সোমবার আম্মানে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন বিন সালমান। একাধিক বৈঠক হয়েছে। কোনও কোনও বৈঠকে জর্ডানের বাদশা আব্দুল্লাহও উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা ও উপদেষ্টা জেরাড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বিষয়ক ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেসন গ্রিনব্লাটের জর্ডান সফরের একই সময়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্পের ওই দুই দূত কথিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি জর্ডান, মিশর, সৌদি আরব ও কাতার সফর করেছেন।

সৌদি আরবের যুবরাজ হওয়ার পর থেকেই মুহাম্মাদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ ওঠেছে। তিনি ইসরাইলের সমর্থনে ফিলিস্তিনিদের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমের দাবি ত্যাগ করতেও পরামর্শ দিয়েছিলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *