২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ২৬শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি

বিলুপ্তির পথে ৪০০ বছরের পুরনো জামে মসজিদ

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : সংস্কারের অভাবে বিলুপ্তির পথে প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো মুসলিম স্থাপত্যশিল্পের অন্যতম নিদর্শন বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের প্রতাব খাদুলী জামে মসজিদ। রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি পুরনো নকশা অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কার করে মসজিদটি চালুর দাবি এলাকাবাসীর।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোন সময় কে মসজিদটি নির্মাণ করেছেন সঠিকভাবে কেউ বলতে পারে না। তবে জনশ্রুতি আছে, সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলে ১৬৩৮ সালে নির্মিত হয় মসজিদটি।

নির্মাণশৈলীতে মিসরীয় সংস্কৃতির পরিচয় মেলে। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদে একটি মাত্র দরজা। নেই কোনো জানালা। মসজিদটি ২২ ফুট দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ২২ ফুট। চুন-সুড়কি ও ইট দিয়ে গাঁথা মসজিদের বাইরে সুদৃশ্য নকশা। আর ভেতরের দেয়ালে নানা কারুকার্যখচিত মুসলিম স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন।

প্রাচীন এই মসজিদটি আজো নজরে আসেনি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের। সংস্কারের অভাবে পরিণত হয়েছে ভগ্নদশায়। আগাছায় ঢাকা পড়েছে মসজিদ ভবন। প্রায় ৩০ বছর আগেও এলাকার মানুষ এ মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন। একসঙ্গে নামাজ আদায়ের সুযোগ রয়েছে ১৫ মুসল্লির।

ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকে থাকা এই শৈল্পিক স্থাপনার শরীরজুড়ে এখন শুধুই অযত্ন আর অবহেলার ছাপ। মসজিদের দেয়ালের পলেস্তারা ধসে পড়েছে। বর্তমানে এ মসজিদে আর নামাজ আদায় হয় না। মসজিদ প্রাঙ্গণের আয়তন প্রায় ১২ বিঘা। সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন মসজিদ, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কবরস্থান। মসজিদের পাশে রয়েছে একটি পুকুর। সেখানে অজু ও গোসল করেন মুসল্লিরা।

প্রতাব খাদুলী জমে মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, অনেক পুরনো এই মসজিদ। আমার জন্ম থেকেই দেখছি। বাপ-দাদার মুখে শুনেছি তাঁরাও এমনই দেখছেন। মসজিদটি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। মসজিদটি দ্রুত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আহম্মেদ জেমস মল্লিক বলেন, ‘প্রাচীন এ মসজিদটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ থেকে সংরক্ষণ ও সংস্কারের পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে এটি দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে স্থান পাবে। ‘

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত জানান, ‘এ ধরনের মসজিদ বা পুরাকীর্তি পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ‘

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com