২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ , ১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা

পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : খরা, বন্যা ও সশস্ত্র সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক কলেরা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এত দ্রুত বাড়ছে যে কলেরা টিকা সরবরাহ চাপে পড়েছে। এতে করে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংস্থা বাধ্য হচ্ছে ডোজের সংখ্যা কমিয়ে নির্দিষ্ট করে দিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এখবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ক্যারিবীয় অঞ্চল, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় কলেরা সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঝুঁকিতে ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। চিকিৎসা করা না হলে দূষিথ পানিবাহিত রোগটি পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে মৃত্যু ঘটাতে পারে একদিনের মধ্যেই। কলেরায় আক্রান্ত রোগী দেহ ভাইরাল ব্যাকটেরিয়া বমি ও পাতলা পায়খানার মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।

সাধারণত কলেরা আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশের মৃত্যু হয়। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সাম্প্রতিক সংক্রমণে মৃত্যুর হার বাড়ছে। যদিও এই রোগের চিকিৎসায় ব্যয় কম এবং সহজ। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি বেশি প্রাণঘাতী। আক্রান্ত শিশুর রোগ দ্রুত গুরুতর এবং বিকলাঙ্গ দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কলেরা মোকাবিলা টিমের প্রধান ড. ফিলিপ বারবোজা বলেন, পরিস্থিতি খুব উদ্বেগের। আমাদেরকে যুদ্ধ ও দারিদ্র মোকাবিলা এবং জনগণের গতিবিধিতে উদ্বেগী হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখন সবকিছুর ওপরে জলবায়ু পরিবর্তন স্থান নিয়েছে।

তিনি বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক কলেরা সংক্রমণকে ‘একটি আগুন যা বড় থেকে বৃহৎ হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেছেন।

নাইজেরিয়ায় সম্প্রতি বন্যায় কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটিতে কলেরা আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৬ হাজার। কেনিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে কয়েক লাখ শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে।

হাইতি, সিরিয়া ও পাকিস্তানে সম্প্রতি কলেরা সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, সিরিয়ায় ২০ হাজারের বেশি কলেরা আক্রান্ত থাকতে পারে। ইতোমধ্যে সেখানে ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে কলেরায়।

এমন পরিস্থিতিতে বেড়েছে কলেরার টিকার চাহিদা। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দুই ডোজ টিকা প্রদান বাতিল করে এক ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যাতে করে সরবরাহ বজায় রেখে আগামী মাসগুলোতে আসন্ন সংক্রমণ ঠেকানো যায়।

ড. বারবোজা বলেন, টিকা নিয়ে আমাদের এমন সিদ্ধান্ত অতীতে নিতে হয়নি। এটি সংকটের ভয়াবহতা। একটি অঞ্চলে যদি এক ডোজ দেওয়া সম্ভব হয় তাহলে সংক্রমণ মোকাবিলা সম্ভব। কিন্তু এর ফলে সুরক্ষার মেয়াদ হবে কম। কলেরা টিকার এক ডোজ ছয় মাস থেকে দুই বছর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা করে। দুই ডোজের ক্ষেত্রে চার বছর সুরক্ষা পাওয়া যায়।

২০২২ সালে ৩ কোটি ৬০ লাখ মুখে দেওয়ার কলেরা টিকা উৎপাদন হওয়ার কথা। এর মধ্যে ২ কোটি ৪০ লাখ টিকা কর্মসূচিতে সরবরাহ করা হবে। বাকি ৮০ লাখ ডোজ ইতোমধ্যে জরুরি দ্বিতীয় দফা টিকা কর্মসূচির জন্য ক্যামেরুন, মালাউয়ি, পাকিস্তান ও কেনিয়ার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন


সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ১৯৮৬ - ২০২২ মাসিক পাথেয় (রেজিঃ ডি.এ. ৬৭৫) | patheo24.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com