পাথেয় টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বের ১৫তম প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি, দারুল উলুম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সদস্য, জানেশীনে ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) জর্দানভিত্তিক রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি) বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিম নেতার নাম প্রকাশ করেছে। সন্ত্রাসবাদের স্পষ্ট নিন্দা এবং ভারতীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থনের জন্য তালিকায় ১৫তম অবস্থানে ওঠে এসেছে মাওলানা মাহমুদ মাদানীর নাম।
রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি) তাদের ওয়েব সাইটে বলেছে, ‘মাওলানা মাহমুদ মাদানীর পিতামহ মাওলানা সৈয়দ হুসাইন আহমাদ মাদানী ইসলামী ধর্মতত্ত্বের একজন মহা পণ্ডিত ছিলেন। মদীনা শরীফ ও দারুল উলুম দেওবন্দে হাদিসের দারস প্রদান করেছেন। ১৯৫৭ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (জেইউএইচ)-এর সভাপতি ছিলেন। পরে তার পুত্র আসআদ মাদানী (মাওলানা মাহমুদ মাদানীর পিতা) তার স্থলাভিষিক্ত হন। যিনি ২০০৬ সালে তার মৃত্যুর আগ সংগঠনটির প্রধান ছিলেন।’
জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের ব্যাপারে কার্যক্রমের বিষয়ে রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি) লিখেছে, ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ যৌগিক জাতীয়তাবাদের পক্ষে বিশ্বাসী একটি দল। দলটি বিশ্বাস করে যে, কেবল একটি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে একটি জাতি গঠিত হতে পরে না। বরং অনেকগুলো বিষয়ের উপর ভিত্তি করে একটি জাতি গঠিত হওয়া উচিত। হাজারো বাধা বিপত্তির মাঝেও মাওলানা মাদানী ভারতে তার এই চিন্তা চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যাাচ্ছেন।’
মাওলানা মাহমুদ মাদানীর কর্মতৎপরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে সংস্থাটি বলেছে, ‘মাওলানা মাহমুদ মাদানী ভারতে মুসলিম অধিকারের জন্য সংগ্রাম করছেন। ভারতবর্ষে জিহাদ শব্দটির অপব্যবহারের বিরোধিতায় স্পষ্টবাদী তিনি। ২০০৮ সালে ভারতের হোটেল তাজের ভয়াবহ বোমা বিষ্ফোরণের পর দারুল উলুম দেওবন্দকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠান করার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। গুজরাট ও কাশ্মীরে ভূমিকম্পের পর ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়ন এর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।’
উল্লেখ্য, রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি) প্রতি বছর বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী ছাড়াও তালিকায় আরো স্থান পেয়েছে পাকিস্তানের বিচারপতি শায়েখ মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, যুক্তরাষ্ট্রের নারী কংগ্রেস রাশিদা তালিব, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রিন্স শায়েখ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আলী হুসাইন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোগান, মরক্কোর বাদশাহ ষষ্ঠ মুহাম্মদ, ইরাকের আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হুসেইন সিস্তানি, ইয়ামেনের দার আল মুস্তফার পরিচালক শেখ আল হাবিব উমর বিন হাফিজ, ওমানের সুলতান কাবুস বিন সাদ আল সাদ, আল আজহার বিশ্ব বিদ্যালয়ের গ্র্যান্ড মুফতি ড. আহমাদ তাইয়্যেব, পাকিস্তান তাবলিগের বিশিষ্ট দাঈ মাওলানা তারিক জামিলসহ বিশ্বের বহু প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিদের নাম।



