পাথেয় রিপোর্ট : ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, মজুরি বৃদ্ধি, ভারে নিহত শ্রমিক হত্যার বিচার ও বিভিন্ন দাবিতে বুধবার চতুর্থ দিনের মতো সড়কে নেমেছে পোশাক শ্রমিকরা। তবে তাদের মোকাবেলা করতে বিভিন্ন স্থানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের কারণে কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
৯ জানুয়ারি বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় অবস্থান করে বিক্ষোভ করছে পোশাক শ্রমিকরা। এছাড়া, সাভার ও রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ও এর আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। সকাল থেকেই রাজধানীর পল্লবী ও কালশী ২২তলা গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিকরা জড়ো হয়েছেন। এরপর মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করছেন। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তৈরি পোশাক করাখানার শ্রমিকরা তাদের মজুরি বৈষম্যসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাভারের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি পোশাক কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ, পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত ১৫ শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। পুলিশ জানায়, সকালে সাভারের হেমায়েতপুরে বাগবাড়ি এলাকায় সড়কে শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পুলিশ প্রায় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও লাঠি চার্জ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সকালে হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড় বাগবাড়ি এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের শামস স্টাইল ওয়্যারস লিমিটেডের শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার পাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের সাথে পার্শবর্তী আরো কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেয়। পরে তারা হেমায়েতপুর-শ্যামপুর সড়কে টায়ার ধরিয়ে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এ সময় পুলিশসহ কয়েকজন শ্রমিক সামান্য আহত হয়। পুলিশ শ্রমিকদের উপর জলকামান, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী চলে শ্রমিক পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এ সময় গোটা এলাকায় সবার মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে পুরো এলাকায়।


